ঢাকা, মঙ্গলবার 20 October 2020, ৪ কার্তিক ১৪২৭, ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

ভিসার মেয়াদ  বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: মহামারী করোনার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছুটিতে এসে দেশে আটকা পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এ বিষয়ে এখনো সৌদি আরবের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

বুধবার দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘অনুরোধ জানানো ছাড়া আর কিছু করার নেই। সৌদি আরব অনুরোধ না রাখলে কী করার আছে?’

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন জারির আগে দেশে আসা কয়েক লাখ প্রবাসী কর্মী আটকা পড়েছেন। বিমান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় লকডাউন শেষে তারা ফিরতে পারছেন না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কয়েক দফায় ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে ছয় মাস। সৌদি প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। এ সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে না ফিরতে পারলে তারা আর সৌদিতে ফিরতে পারবেন কী-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এমন কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।

এদিকে দেশে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীদের ইকামা বা ভিসার মেয়াদ অন্তত তিন মাস বাড়াতে সৌদি আরবকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল মঙ্গলবার এক আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সৌদি আরব দূতাবাস ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে ওই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভিসার মেয়াদ তিন মাস বাড়াতে ইতোমধ্যে সৌদি সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু দেশটির কাছ থেকে আশ্বাস করার মতো কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। উল্টো সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে থাকা অবৈধ কর্মীদের ফিরিয়ে নিতে বলছে।’

এদিকে আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভিসা জটিলতার আশঙ্কায় দ্রুত সৌদি আরবে পৌঁছাতে প্লেনের টিকেটের দাবিতে আন্দোলনরত সৌদি প্রবাসীদের বিশৃঙ্খলা না করার অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সৌদি সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড পছন্দ করেন না তবে শান্ত থাকলে এ সমস্যার সমাধান দ্রুত সম্ভব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা বিশৃঙ্খলা করবেন না। আমরা সৌদি সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এদিকে সৌদি আরবে কাজে ফিরতে প্রবাসীদের জন্য ঢাকা থেকে শুধু সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের দু’টি ফ্লাইট চলছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিচ্ছে না সৌদি আরব। আগামী ১ অক্টোবরের আগে বিমানের ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স টিকিট বিক্রি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করায় গতকালের মতো আজ (বুধবার) সকালেও কারওয়ান বাজারে সাউদিয়া কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ করেন প্রবাসীরা। সেখান থেকেই বিক্ষোভকারীদের একাংশ ইস্কাটন গার্ডেনের প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।

ভবনের ভেতরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ইতোমধ্যে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রস্তুত করে রেখেছে প্রবাসীরা। ভেতর থেকে ডাক আসলেই কথা বলতে যাবেন তারা।

ভবনের বাইরে অবস্থান নেয়া সৌদি প্রবাসী বগুড়ার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমি ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর ছুটিতে দেশে ফিরি। লকডাউনের কারণে যেতে পারিনি। আমার ভিসার মেয়াদ, আকামা ও কোম্পানির ছুটি শেষ হয়ে গেছে। গত ১ মাস ধরে টিকিটের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কেউই টিকিট দিতে পারছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে ফিরতে না পারলে আমাকে চাকরি হারাতে হবে। অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্যও হুমকির মুখে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ