ঢাকা, রোববার 25 October 2020, ৯ কার্তিক ১৪২৭, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নূর, বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। রাত ১২.৩৫ মিনিটের দিকে তাকে ছেড়ে দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এরআগে রাত ১১.৪৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নুরকে তাদের হেফাজতে নেয়। এসময় গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা মেডিকেল-এর পকেট গেট দিয়ে গাড়িতে তুলে নুরকে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নুরের সমর্থকরা সেই গাড়িতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ নুরকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে।

এদিকে মধ্যরাতে ছেড়ে দেয়া হলেও তাকে বেধড়ক পেটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এই ছাত্রনেতা।

নূর বলেন, ডিবি কার্যালয়ে খুব ভালো ব্যবহার পেয়েছি। কিন্তু রাস্তাতেই তো পিটিয়ে আমাদের আধা-মরা করেছে। রাস্তায় আনার সময়ই তো আমাকে মারছে। সিনেমার স্টাইলে জাম্প করে পুলিশ আমাকে কাঠ দিয়ে বেধড়ক মেরেছে। আমি বলেছি, নেতাকর্মীদের রেখে পালাবো না।

ভিপি নুর বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম কিন্তু হঠাৎ পুলিশ কেন আমাদের ওপর হামলা করেছে সেটা বুঝতে পারিনি। রড, কাঠ এসব দিয়ে ফিল্মি স্টাইলে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় হামলা-মামলার শিকার হই। আমি আগেও বলছি এদেশে বিচার নাই, আইনের শাসন নাই, গণতন্ত্র নাই। সুতরাং আমার বিচার হচ্ছে জনগণের কাছে। আমরা তো কোন অপরাধী না, আমরা ছাত্রনেতা। আমরা মার খেলাম, শার্ট ছিঁড়ে গেলো। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে চলে যাচ্ছিলাম। কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়া পুলিশ কেন আক্রমণ করল তা বুঝতে পারিনি। এও বুঝতে পারিনি কী কারণে আমাদের ধরে আনা হলো এবং আবার ছেড়ে দেয়া হলো। যেটা মনে হচ্ছে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এটা করা হয়েছে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, নুরসহ ৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নুর কিছুটা অসুস্থবোধ করায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে নুরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে মুচলেকার মাধ্যমে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার রাতে রাজধানীর লালবাগ থানায় ভিপি নুরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। যেখানে ধর্ষণে সহযোগিতাকারী হিসেবে নুরুল হক নুরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে  মিছিল বের করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ভবন এলাকায় গেলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এসময় পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে নুরকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে আলোচনায় আসেন নুর। তিনি ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। জুন ২০২০ সালে নুর তরুণদের নেতৃত্বে একটা নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার ব্যাপারে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ