বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

বিএনপির আন্দোলনের ডাক এখন মিথ্যাবাদী রাখালের গল্পের মতো -ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনের ডাক এখন মিথ্যাবাদী রাখালের গল্পের মতো। জনগণও বিশ্বাস করে না, দলীয় কর্মীরাও বিশ্বাস করে না। নেতিবাচকতার কারণে তারা আন্দোলনের সক্ষমতা হারিয়েছে।
গতকাল রোববার সকালে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বি আরটিএ আয়োজিত বিশেষ সেবা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। এসময় সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বি আরটিএ’র চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদারসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেব আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সরকারকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কোন আন্দোলনের কথা বলছেন? কর্মসূচি আর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে নেতারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে থাকার যে আন্দোলন সেই আন্দোলন বিএনপির মুখে অনেকবার শুনেছি ‘
তিনি বলেন, ‘গত দশ বছরের অধিক সময় ধরে বিএনপির আন্দোলনের অনেক হাঁক-ডাক এদেশের মানুষ শুনেছে। অথচ রাজপথে তারা তাদের নেত্রীর মুক্তির দাবিতেও পাচশ লোকের একটি বিক্ষোভ মিছিল দেখাতে পারেনি। তর্জন গর্জনই শুধু শুনেছি। কিন্তু বর্ষণ দেখিনি। ওনারা আন্দোলন করছে দলীয় অফিসের সামনে। নিজ দলের নেতাকর্মীদের মাথা ফাটিয়ে। ওনারা আন্দোলন করেন নয়া পল্টনে। কমিটি ঘোষণার পর নিজের অফিস জ্বালিয়ে দিয়ে। এটা কি আন্দোলন?
‘জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া এদেশে অতীতে কোনো আন্দোলন সফল হয়নি। জনগণকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে কোনো আন্দোলনই অর্থবহ রূপ নেয় না।’ এটাই এদেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি প্রতিবছর ঈদের পরেই আন্দোলনের শুধু ঘোষণা দেয়। কিন্তু জনগণ কত ঈদ এর মধ্যে পার করেছে। আন্দোলন আর দেখেনি। রাজপথ শূন্যই থাকে। বিএনপির আন্দোলন দ্বার রুদ্ধ করে প্রেস বিফ্রিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিএনপির আন্দোলন পারস্পরিক অবিশ্বাস, কলহ নেতিবাচক রাজনীতি চক্রে আবদ্ধ। বিএনপির আন্দোলনের ডাক এখন মিথ্যাবাদী রাখালের গল্পের মতো। জনগণ তো বিশ্বাসই করে না, দলীয় কর্মীরাও বিশ্বাস করে না। নেতিবাচকতার কারণে তারা তাদের আন্দোলনের সক্ষমতা হারিয়েছে। কেউ যদি ভাবেন বিদেশে বসে এদেশে বিপ্লব ঘটাবেন, তাহলে আমার মনে হয় তারা দুঃস্বপ্ন দেখছেন।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, আন্দোলন করে সরকারকে সরাতে না পারলে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা যাবে না। বিএনপির কথায় জনগণ হাসে। কাদের নিয়ে আন্দোলন করে বিএনপি স্বাধীনতা রক্ষা করবে? সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে নিয়ে? যারা এ দেশের স্বাধীনতা মেনে নেয়নি, তাদের নিয়ে আন্দোলন করবে? এদেশের স্বাধীনতা এসেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে রয়েছে আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব যারা এনেছে তাদের হাতেই স্বাধীনতা নিরাপদ। সরকার পরিচালনায় রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। যার কাছে এ দেশের মিাটির প্রতিটি কণা জীবনের মতো মূল্যবান। আমাদের ক্ষমতার উৎস জনগণ বলেই আমাদের হাতে স্বাধীনতা নিরাপদ। তাদের ক্ষমতার উৎস অন্ধকারের চোরাগলি।
তিনি  বলেন, ‘এদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে বলেই বিএনপি এখনও রাজনীতি করছে। যখন যা খুশি বলছে। প্রতিদিন বিএনপি নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে যথেচ্ছ অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। পত্রিকা টকশোতে সরকারের অন্ধ সমালোচনা করছেন। বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তারপরও বলছেন, গণতন্ত্র নেই, স্বাধীনতা নেই। ক্ষেত্রে বিশেষে সরকারি দলের চেয়ে তারাই বেশি কাভারেজ পচ্ছেন। তারপরও অভিযোগ করে, দেশে নাকি মুক্ত গণমাধ্যম নেই। আসলে রুদ্ধ হয়েছে বিএনপির ভাবনা জগৎ, দেখার আকাশ। তাদের দৃষ্টিসীমায় ক্ষমতা ফিরে পাওয়া মরীচিকা। আন্দোলন আর রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। তাই ভালোকিছু দেখতে পান না তারা। যে গণমাধ্যম তাদের রাজনৈতিক অপমৃত্যু থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে তারা সেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ