শুক্রবার ২৭ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ফের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিল ভারত

স্টাফ রিপোর্টার : পাঁচ দিন বন্ধের পর শনিবার ভারতে আটকে পড়া পেঁয়াজ রফতানি শুরু করেন সে দেশের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। তবে পেঁয়াজের বাজার স্থিতি রাখতে অনলাইনে পেঁয়াজ বিক্রির ঘোষণা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
গতকাল রোববার  বিকেল পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজবাহী কোনো ট্রাক দেশে প্রবেশ করেনি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নতুন করে নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রফতানির সম্ভাবনা নেই।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, ভারত সরকার গত সোমবার হঠাৎ করে কোনো কিছু না জানিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। পরে শুক্রবার একটি নোটিফিকেশন জারি করে যে, গত রোববার টেন্ডার হওয়া পেঁয়াজগুলো তারা রফতানি করবে। সেই মোতাবেক অনুমতি দেয়ায় গত শনিবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মাত্র ১১টি ট্রাকে ২৪৬ টন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করে। যে ১১ ট্রাক পেঁয়াজ রফতানি করেছে তার অধিকাংশ পেঁয়াজই ইতোমধ্যে পচে নষ্ট হয়ে পানি ঝরছে। এ কারণে আমদানিকারকরা এসব পেঁয়াজ নিয়ে এসেও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এখনও ২০০’র বেশি পেঁয়াজবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া যে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য আমাদের এলসি দেওয়া রয়েছে তার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। এগুলোর বিষয়ে তারা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা কী করবে তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
হারুন উর রশীদ বলেন, গতকাল রোববার বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ প্রবেশ করবে কিনা সে বিষয়টি আমাদের জানা নেই। কারণ শুধু গত রোববারের টেন্ডার হওয়া পেঁয়াজ রফতানির জন্য অনুমতি পেয়েছে। কিন্তু নতুন করে কোনো নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ভারতীয় কাস্টম বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজ রফতানি করতে দেবে না।

এদিকে হিলিতে শনিবার আমদানি হওয়ায় ভালোমানের কিছু পেঁয়াজ আগের দিনের চেয়ে রোববার কেজিতে ১০ টাকা কমে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ভারত সরকার হঠাৎ করে কোনো কিছু না জানিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এতে দেশের বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম। তবে সরকারের নানা উদ্যোগে গত দুদিন ধরে পেঁয়াজের মূল্য কমতির দিকে।
এদিকে দেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ আছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ফলে ক্রেতাদের অস্থির হয়ে বেশি পেঁয়াজ না কেনার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা আছে এবং সেই সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। সাধারণ মানুষের কাছে একটা মেসেজ পৌঁছানো দরকার সেটা হলো যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু কিনলে কোনো সমস্যা হবে না।
গতকাল রোববার দুপুরে অনলাইনে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন অস্থির হয়ে না যায়। আমাদের এখনও পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ আছে। এছাড়া যদি কিছুটা কমও পড়ে সেটি আগামী ১ মাসের মধ্যে তুরস্ক, মিয়ানমার থেকে চলে আসবে। সবকিছু আমাদের হাতের নাগালেই আছে। এর আগে অনলাইনে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ- টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অনলাইনে অর্ডার দিয়ে একজন ক্রেতা ৩৬ টাকা কেজি দরে একদিনে আপাতত সর্বোচ্চ ৩ কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। একবারে সরবরাহ বা ডেলিভারি চার্জ বাবদ সর্বোচ্চ ৩০ টাকা নিতে পারবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো।
এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকেই সামাজিক কারণ ও সময়ের অভাবে রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির ট্রাক থেকে পেঁয়াজ কিনতে পারেন না। এ ছাড়া টিসিবির ট্রাক সংখ্যা বাড়ানোর সক্ষমতাও সীমিত। তাই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে অনলাইনে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।
পাঁচটি প্রতিষ্ঠান আপাতত এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। সেগুলো হলো চালডাল, স্বপ্ন অনলাইন, সিন্দাবাদ ডট কম ও সবজিবাজারডটকম। আগামীকাল থেকে বিডিসোল ও একশপ এ কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারে। পরে আরও প্রতিষ্ঠান যোগ হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আপাতত তিন দিনে ৫০০ কেজি করে পেঁয়াজ দেবে টিসিবি। একজন ক্রেতা একাধিকবার যাতে পেঁয়াজ না কিনতে পারেন, তা তদারকিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আপাতত এ সেবা ঢাকা ও চট্টগ্রামে সীমিত থাকবে।
ঢাকায় এখন ৪০টি ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করে টিসিবি। প্রতি কেজির দর ৩০ টাকা। সাধারণত একজন ক্রেতা দুই কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারেন। তবে চাপ বেশি থাকলে এক কেজি করে দেওয়া হয়। সারা দেশে ২৭৫টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি করে টিসিবি।
ভারত গত ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর দেশে পেঁয়াজের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা ছাড়ায়। অবশ্য গত দুই দিন ধরে দাম পড়তির দিকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ