মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

জনগণ তো মুক্তির অপেক্ষায়

অনেক প্রতিবেদন মানবিক অনুভূতিকে স্পর্শ করে যায়। ধর্ম, বর্ণ, দেশ বা রাজনীতি সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। মানুষকে মানুষ হিসেবে ভাবতেই প্রেরণা দেয়। জানাশোনা নেই, পরিচয় নেই অথচ অনেক আপন মনে হয়। অপরিচিত মানুষদের দুঃখ-কষ্টেও চোখে পানি আসে। ওদের জন্য কিছু করতে ইচ্ছেরা জাগ্রত হয়। এমন একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘পেটে ক্ষুধা নিয়ে পায়ে হেঁটেই স্কুলে যায় ৬০ শতাংশ শিশু’। সচিত্র প্রতিবেদনটিতে কোমলমতি দরিদ্র শিশুদের ভাঙাচোরা দীর্ঘ রাস্তা অতিক্রমের কষ্টকর অভিযাত্রা দেখলে যে কোন মানুষের চোখ অশ্রুসিক্ত হবে।
১৯ সেপ্টেম্বর ‘দি ওয়াল’ পরিবেশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, দুপুরের ভাত জোগাতে হিমশিম খেতে হয় পরিবারকে, সেখানে শিশুদের পরিবহনের খরচ যোগানোর মতো সামর্থ্য বা মনোভাব নেই কারও। ভারতের ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকাল অর্গানাইজেশনের (এনএসও) রিপোর্ট বলছে, প্রত্যন্ত এলাকার ৬০ শতাংশের বেশি শিশু পায়ে হেঁটেই স্কুলে যায়। স্কুলের বারান্দায় ওরা সারি দিয়ে বসে। সামনে ভাতের থালা। হাত বেয়ে পড়ে পাতলা ডাল, সঙ্গে একটু আলু-সয়াবিনের তরকারি। তা-ই যেন অমৃত। খিদে পেটে হাপুস-হুপুস করে খেয়ে নেয় বাচ্চারা। সেই চাল বা ডালের গুণগত মান যাই হোক না কেন। এই হলো মিড-ডে মিল, আর তার লোভেই গ্রাম-গঞ্জের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ছুটে যাওয়া। এ জন্য কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটেই স্কুলের পথ ধরে বাচ্চারা ভাঙাচোরা রাস্তা হোক, কাত হয়ে পড়া সেতু হোকÑ হাঁটাই একমাত্র উপায়। সারা গ্রামে হয়তো একটাই স্কুল, ফলে বাড়ি থেকে দূরত্ব বেশি। আর হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল হলে হয়তো আরও দুই-তিনটে গ্রাম পেরিয়ে যেতে হয় তাদের।
গণ্ডগ্রামের, প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের জীবন যাপনের একটা চিত্র আমরা পেলাম। এর মাধ্যম ওদের অভিভাবকদের, সমাজের অবস্থাটাও উপলব্ধি করা যায়। এমন চিত্র শুধু ভারত বা এশিয়ার দেশগুলোতে নয়, পাওয়া যায় পাশ্চাত্বের দেশগুলোতেও। আদর্শহীন বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি ও নানা তকমায় বিভক্ত সমাজে সাধারণ মানুষ ভালো থাকবে কেমন করে ? যারা দেশের আসল নাগরিক, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, যাদের নামে রাজনীতি হয়, যাদের নামে উন্নয়নের প্রোপাগাণ্ডা হয়, দিনশেষে তারাই হয় শোষিত-বঞ্চিত ও প্রতারিত। ফলে জনপদের আসল নাগরিকদের দারিদ্র্য দূর হয় না, ভাগ্যোন্নয়ন হয় না। অথচ এদের নিয়ে কত ভাষণ, কত উচ্চারণ! তাহলে বর্তমান সভ্যতায় রাজনীতি কোথায় আটকে আছে? রাজনীতি কি আটকে আছে সুবেশধারী মাফিয়াদের হাতে, বাকপটু অভিনেতাদের হাতে কিংবা লোভ-লালসায় ভারাক্রান্ত বিবেকহীন কিছু প্রাণীর কাছে? এদের কাছ থেকে তো ন্যায়, মানবিক আচরণ অথবা সম্পদের সুষম বণ্টন আশা করা যায় না। তবে মানুষের সমাজ কখনো সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায় না, সমাজে এখানো ভালো মানুষ আছেন, তাইতো সমাজ পরিবর্তনের কথা শোনা যায়, শোনা যায় কালান্তরের কথাও।
আমরা আশা করবো, জনপদের জনগণকে যারা ভালোবাসেন তারা রাজনীতির সব ধোঁয়াশা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে আসবেন। মুক্তির সরল পথে এগিয়ে এলে জনজোয়ার রুখবে কে? জনগণতো মুক্তির অপেক্ষায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ