মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কৃষকের ছেলে যেভাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ৭১ বছর বয়সী ইশিহিডি সোগা। অজপাড়াগাঁয়ের এক কৃষকের সন্তানকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে পার্লামেন্ট। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার পূর্বসূরি শিনজো অ্যাবের পদত্যাগের পর বুধবার তার ডানহাত বলে পরিচিত সোগা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে সোমবার ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রধান হিসেবে ব্যাপক ভোটে বিজয়ী হন তিনি। সোগা পার্লামেন্টের সদস্যদের বৈধভাবে পড়া ৪৬২টি ভোটের মধ্যে ৩১৪টি পেয়েছেন।
জাপানের উত্তরের আকিতা জেলার ছোট এক গ্রামে জন্মেছেন সোগা। তার বাবা ছিলেন স্ট্রবেরিচাষি ও মা স্কুলশিক্ষক। ১৮ বছর বয়সে তিনি গ্রাম ছেড়ে চলে আসেন টোকিও। কার্ডবোর্ড কারখানায় কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে হোসেই ইউনিভার্সিটিতে নাইট স্কুলে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন সোগা। সেখানে পড়ার অন্যতম কারণ ‘সবচেয়ে কম খরচে’ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। এখানেই আবের সঙ্গে সোগার পার্থক্য প্রকট। আবের বাবা জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দাদা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অন্যদিকে, এ পর্যন্ত আসতে সোগাকে অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।
এরপর ১৯৮৬ সালে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) একজন আইনপ্রণেতার সচিব হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৮৭ সালে ইয়োকোহামার মিউনিসিপ্যাল অ্যাসেম্বলি মেম্বার নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে কানাজাওয়া প্রদেশ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৫ সালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কইজুমির মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি। পরে আবের সময় সোগার প্রভাব আরও বাড়তে থাকে। তিনি আবের প্রশাসনে মন্ত্রিপরিষদের প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা প্রধানমন্ত্রীর পর জ্যেষ্ঠতম পদ। সাংবাদিকদের কাছে সোগা ‘লৌহ দেয়াল’ হিসেবে পরিচিত। যোগাযোগ আর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাহীন সোগার একমাত্র সম্বল ছিল কঠোর পরিশ্রম। এই পরিশ্রমের পুরস্কারও পেয়েছিলেন। উন্নত চিন্তা, পরিশীলিত আচরণ ও গুণাবলি আর কঠোর অধ্যবসায়ের ওপর ভর করেই এক অসম্ভব পথে যাত্রা ছিল তার। যিনি আজ কৃষকপুত্র থেকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
প্রার্থিতা ঘোষণার সময়েই দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী অ্যাবের শুরু করা বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে অ্যাবের ‘অর্থনৈতিক কৌশল’ অ্যাবেনোমিক্স অন্যতম। দায়িত্বগ্রহণের পর অতিসংক্রামক করোনাভাইরাসের মোকাবেলার পাশাপাশি তাকে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হবে তাকে। মহামারীর কারণে দেশটির অর্থনীতিও বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ দরকার বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশ্বের তৃতীয় অর্থনীতির দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশেরই বয়স ৬৫ বছরের বেশি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ