মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আসাদুল নয় ইউএনওর ওপর হামলা করেছে রবিউলই দাবি পুলিশের

স্টাফ রিপোর্টার : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনায় আসাদুল নয়, রবিউল ইসলামই জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। হামলার এ ঘটনা তদন্তে পুলিশ শতভাগ সফলতার দাবি করছে। জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল ইসলামের দেয়া বক্তব্য, আলামত, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ঘটনার বর্ণনা সবগুলোই একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই ঘটনার সঙ্গে শতভাগ রবিউলই জড়িত এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরে অনেকটাই স্বস্তিতে বলে দাবি করেছে দিনাজপুর  পুলিশ।  
সরকারি বাসায় ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার ঘটনা তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে এ ঘটনার পর থেকে জেলা পুলিশের সব কর্মকর্তারই প্রায় নির্ঘুম রাত কেটেছে। কেউ কেউ ১৮ ঘণ্টা থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। প্রথম অবস্থায় র‌্যাবের দাবি করা আসাদুলকে সাতদিনের রিমান্ডে নিলেও চারদিনই তিনি বলেছেন যে, ঘটনাটি তিনিই ঘটিয়েছেন। কিন্তু তার কথার সঙ্গে ফুটেজ, আলামত বা বর্ণনা কিছুরই মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি যাদের কথা বলেছেন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনো ক্লু পায়নি পুলিশ। অবশেষে আসাদুলকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলার পর চতুর্থ দিনে তিনি বলেছেন যে, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। এ সময় পুলিশ আসাদুলের কাছ থেকে তদন্ত কার্যক্রম সরিয়ে নিয়ে অন্য দিকে কাজ শুরু করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কাদের দ্বিমত আছে বা কারা তার প্রতি অসন্তুষ্ট তা খুঁজতে থাকে পুলিশ। যাকেই সন্দেহ হয়েছে এবং তার সঙ্গে দ্বিমত বা অসন্তুষ্ট থাকতে পারে মনে হয়েছে তাকেই জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনা তদন্তে পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশ মহাপরিদর্শকের একজন স্পেশাল কর্মকর্তাকে এই কাজে ট্যাগ করে দেয়া হয়েছিল। ইউএনওর সঙ্গে দ্বিমত বা তার প্রতি অসন্তুষ্ট এমন বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও যখন কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না তখন পুলিশের সামনে আসে রবিউল ইসলামের সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার বিষয়। এরপর রবিউলকে নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
অবশেষে একটি মোবাইল নম্বর পায় পুলিশ। যেটিতে দিনাজপুরের বিরল থেকে ঘোড়াঘাট যাওয়ার লোকেশনগুলো দেখাচ্ছিল। কিন্তু এই নম্বরটি রবিউলের কি-না এটি নিশ্চিত হতে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রবিউলের স্ত্রী বারবার বলছিলেন যে তার স্বামী জড়িত না, কিন্তু মোবাইল নম্বরটির কথা বললে তিনি অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছিলেন। পরে বিভিন্ন উপায়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে রবিউলই সেদিন ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। এরপর রবিউলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি যে ঘোড়াঘাটে গিয়েছিলেন সেসব তথ্য জানানোর পর রবিউল হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেন।
এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাসায় নগদ প্রায় ৪০ লাখ টাকা ছিল। ছিল স্বর্ণালঙ্কারও। কিন্তু হামলাকারী রবিউল ইসলাম নিয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। বাকি টাকা আলমারিতে থাকায় রবিউল নিতে পারেনি। খোয়া যায়নি স্বর্ণালঙ্কারও। জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল জানিয়েছে, ইউএনও’র বাসায় নগদ টাকা আছে এটা সে ধারণা করেছিল। কিন্তু এত টাকা রয়েছে এই তথ্য তার জানা ছিল না। এছাড়া সে চেষ্টা করেও আলমারি খুলতে পারেনি। ক্ষোভ থেকে হামলা ও নগদ টাকা চুরির পরিকল্পনা করেছিল সে।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ইউএনও’র বাসার সাবেক মালি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী রবিউল আলমারি খুলতে পারেনি। সে ওয়াহিদা ও তার বাবা ওমর আলী শেখকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে অচেতন করে ওয়্যারড্রোবের ওপরে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। যদি সে আলমারি খুলতে পারতো তাহলে হয়তো সব নগদ টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে যেত। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, তারা খোকনের কাছ থেকে ওই টাকা উদ্ধার করেছেন। খোকন, সেলুন মালিক মুরাদ ও গ্যারেজ মালিক আইনুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও রবিউলের স্বীকারোক্তির সঙ্গে মিল পেয়েছেন। তিনজনকেই এই মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। রবিউল ইসলাম হামলার সঙ্গে প্রকৃতই জড়িত কি-না বা তার সঙ্গে আর কেউ ছিল কি-না সেটি জানতে পুলিশ মেলাতে শুরু করে যে তিনি কোন স্থানে কতক্ষণ সময় অতিবাহিত করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে কোথায় কত সময় অতিবাহিত করেছেন এবং এসবের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন রবিউল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে রবিউলের কথার মিল খুঁজে পায় পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ