মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন কম-বেশি ভালো অবস্থানে রয়েছে

গতকাল বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হয়

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন কম-বেশি ভালো অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বাজেট ঘোষণা করেছি, জানি না কতদূর করতে পারব (বাজেট বাস্তবায়ন), তবে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি সবকিছু ভালোভাবে যায় তাহলে আমরা সম্পূর্ণ অর্জন করতে সক্ষম হব। যদি তা না হয় তবে সেটি আমরা দেখব...আমরা পিছপা হব না। আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা চালু রাখতে জাতীয় বাজেট দিয়েছি।
গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সকাল ১০টার দিকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে দলের সংসদীয় বোর্ডের সভার পর এই প্রথম দলের নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সভা গণভবনে অনুষ্ঠিত হল। সভায় সভাপতিমণ্ডলীর অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মরহুম দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সভায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়
সভায় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবদুল মতিন খসরু, আব্দুল মান্নান খান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের কল্যাণে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার মনে হয়, একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল বলে এইভাবে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেছে এবং মানুষকে সহযোগিতা করেছে। অন্য কোনো দল হলে এটি মোটেই করত না। বরং তারা দেখতে যে, কীভাবে এখান থেকে ফায়দা লুটতে পারে কি না? কিন্তু আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এটি আমাদের নীতি, এটা আমাদের লক্ষ্য। এটি জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছেন। আমরা সেইভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, ‘আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, যারা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তাদের পাশে দাঁড়ানো। আর আমাদের বাংলাদেশের এমনি একটা অবস্থা, আমাদের তো শুধুমাত্র করোনার জন্য সর্বনাশ হচ্ছে সেটা তো না সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগকেও আমাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে এবং সেটাও আমরা বলব যে, অত্যন্ত সমযোপযোগী পদক্ষেপ নিয়ে আমরা সেগুলো মোকাবিলা করতে পেরেছি। আশঙ্কা ছিল যে বিশাল একটা বন্যা বা দীর্ঘস্থায়ী একটা বন্যা দেখা দিতে পারে। এখনও পানি আছে কিছু কিছু নদীতে। কিছু ভাঙনও হচ্ছে। এবার নদী ভাঙনটা ব্যাপক হয়েছে। নদী ভাঙনে কিছু কিছু এলাকা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ একেবারে ঘরবাড়ি হারা হয়েছে। তারপরও এ অবস্থা মোকাবিলায় আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ আমাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে যে, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সেবা করা এবং রাজনৈতিক দল হিসাবে আমরা যদি অন্য দলগুলি দেখি যারা হয়ত শুধু লিপ সার্ভিস অর্থ্যাৎ ওই মুখে মুখে কথা বলেছে কিন্তু প্রকৃত মানুষের কাছে যেয়ে মানুষকে সাহায্য করা, সেটা কিন্তু আমরা অন্য দল বা অন্য সংস্থা; তাদের উপস্থিতিটা ওভাবে দেখিনি, এনজিও-টেনিজিও অনেকেই আছে। কিন্তু তাদেরকে আমরা ওভাবে দেখি নাই। কিন্তু আমাদের আওয়ামী লীগ এবং আমাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে। সেই সঙ্গে আমি প্রশংসা করি, আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তারা সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। প্রশাসন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সকলের ভূয়সী প্রশংসা করেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। ২০২১ সাল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। ২০২০ থেকে ২০২১ এটাই আমরা মুজিববর্ষ ঘোষণা দিয়েছি। কাজেই ২০২১ সালের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার আমরা কমিয়ে ১৬-১৭’র মধ্যে নামিয়ে নিয়ে আসব। এরইমধ্যে ২০ভাগ নামিয়ে এনেছি, যেখানে ৪০ ভাগ ছিল। সেটা আমরা ২০ দশমিক ৫ ভাগে নামিয়ে এনেছিলাম।’
শিল্প কৃষিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘যখনি করোনা দেখা দিয়েছে, তখনি আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সাথে সাথে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি আর কিছু না হোক আমাদের ফসল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে হবে। কারণ আমি জানি, এ কারণে সারাবিশ্বব্যাপী খাদ্য মন্দা দেখা দিতে পারে, দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ যেন খাদ্যে কষ্টে না পায়। সঙ্গে সঙ্গে সারের দাম আরও কমানো হলো। যেটা বিএনপির আমলে ৯০টা ছিল সেটা কমিয়ে এখন ১২ থেকে ১৩ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। ঠিক এইভাবে কৃষকদের বিশেষ আমরা আলাদা প্রনোদনা প্যাকেজ দিয়ে দিয়েছি। সেখানে কৃষক যেন তার কাজ করতে পারে। সেদিকে লক্ষ্য রাখছি।’
তিনি বলেন, ‘‘অর্থ্যাৎ কোনো শ্রেণী বাদ না যায়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই করেছি। আমার মনে হয়, একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল বলে এইভাবে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেছে এবং মানুষকে সহযোগিতা করেছে। অন্য কোন দল হলে এটা মোটেই করত না। বরং তারা দেখতে যে, কীভাবে এখান থেকে ফায়দা লুটতে পারে কি না? কিন্তু আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এটা আমাদের নীতি, এটা আমাদের লক্ষ্য। এটা জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছেন। আমরা সেইভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।’
তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সমন্বয়ের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সাথে সমন্বয় করে টিমওয়ারী সাংগঠনিক সফরে নামার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন থেকে সম্মেলন না হওয়া সব স্তরে সম্মেলন করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
বৈঠক সূত্র জানাগেছে, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর দক্ষিণ এবং সহযোগী সংগঠনের জমা দেওয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটিগুলো দ্রুত ঘোষণা করার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা ঘোষণা করবেন।
এছাড়া চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সেকেন্ড ওয়েভ তথা দ্বিতীয় পর্যায়ে সংক্রমণ বেড়ে গেলে দলীয়ভাবে করণীয় ও আগাম প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয় বৈঠকে। সভায় উপস্থিত প্রেসিডিয়াম সদস্যরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন এবং করণীয় নির্ণয়ে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ৫টি উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ের লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয় সেদিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন দলীয় সভাপতি।
সভার সূচনা বক্তব্যে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের কল্যাণে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার মনে হয়, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল বলে এইভাবে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেছে এবং মানুষকে সহযোগিতা করেছে। অন্য কোন দল হলে এটা মোটেই করতো না। বরং তারা দেখতে যে, কিভাবে এখান থেকে ফায়দা লুটতে পারে কি না? কিন্তু আমরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছি। এটা আমাদের নীতি, এটা আমাদের লক্ষ্য। এটা জাতির পিতা আমাদের শিখিয়েছেন। আমরা সেইভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে আমাদের এই সভা। করোনাভাইরাসের পর থেকেই বিশ্বব্যাপী একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চলছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হচ্ছে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এবং শুধু আমাদের দেশ বলে না সারাবিশ্বব্যাপী যেহেতু এই অবস্থার সৃষ্টি। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, এই করোনাকে মোকাবেলা করে আমরা কিভাবে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক গতিটা অব্যাহত রাখতে পারি।’
 আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, দেশটা শুধু বর্তমান না, নতুন প্রজন্মের জন্য কীভাবে এগিয়ে যাবে, কীভাবে চলবে, সেটাই এখন থেকে প্রস্তুতি নিয়ে নির্দেশনা দিয়ে রাখব। যেন যারাই ভবিষ্যতে আসুক তারাই এগিয়ে নিতে পারে। কারণ, আমাদের তো বয়স হয়ে গেছে। আমার তো ৭৪ বছর বয়স, আর কতদিন! সেটাও মাথায় রাখতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে আমরা মোটামুটি ভালো অবস্থানে আছি। বাজেটের ডেফিসিটি আমরা ৬ শতাংশ ধরেছিলাম। এখানে আমার সিদ্ধান্ত ছিল, দরকার হলে ১০ শতাংশ ধরবো। কিন্তু সেটা আমাদের লাগেনি। ৬ শতাংশের মধ্যে রেখেই আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পেরেছি। কারণ, আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যার একটা ইকোনমিক পলিসি আছে, সেটাকে মাথায় রেখেই আমরা কিন্তু কাজ করে যাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা পার্টির যে পলিসি সেটাকে মেনেই কিন্তু সব পদক্ষেপ নিচ্ছি। ২০০৮ সালে সরকার গঠন করে ২০১০ সালে আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নিয়েছিলাম ২০১০ থেকে ২০২০। এখন আমরা ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সেটাও আমরা গ্রহণ করেছি।’
দেশের মানুষকে কীভাবে সুন্দরএকটা জীবন দেওয়া যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নটা ত্বরান্বিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ প্রণয়ন করেছি, বাস্তবায়ন করছি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ