মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনায় করোনা ও উপসর্গে দুইজনের মৃত্যু

খুলনা অফিস : খুলনায় করোনা ও উপসর্গে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা করোনা ডেডিকেটেড (ডায়াবেটিস হাসপাতাল) পরিতোষ সাহা (৬৫) নামে এক পজেটিভ রোগী এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বাবুল বিশ্বাস (৫৫) নামে এক ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের সহকারী সমন্বয়কারী ও আইসোলেশন ওয়ার্ডের মূখপাত্র ডা. মিজানুর রহমান বলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার নকুল চন্দ্র সাহার ছেলে পরিতোষ সাহা (৬৫) করোনা পজেটিভ হয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা সোবাহান বিশ্বাস এর ছেলে বাবুল বিশ্বাস (৫৫) জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার সকালে ভর্তি হয় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়। করোনা পরীক্ষার জন্য তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
অপরদিকে  বেসিক ব্যাংকের খুলনা শাখার ২২ কর্মকর্তা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন ব্যাংকের ডিজিএম মাসুদুল আলম। এ অবস্থায় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ও অ্যাডভাঞ্চ ডিপার্টমেন্টের কাজ আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত শাখা ইনচার্জ ও এজিএম আব্দুল্লাহ হান্নান হাওলাদার।
আব্দুল্লাহ হান্নান বলেন, আমাদের ২২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন সুস্থ হয়েছেন। এখনও ১৭ জন অসুস্থ আছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন দ্বিতীয় বার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাংকটিতে এত জন কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ব্যাংককের কয়েকজন গ্রাহক বলেন, আমরা বিষয়টি জানিই না। করোনা আক্রান্তরা প্রত্যেকেই ব্যাংকে কাজ করছেন এবং যারা অসুস্থ হয়েছেন তাদের মাধ্যমে কত জন গ্রাহক আক্রান্ত হয়েছেন তারও হিসেব নেই।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে কি না তাও চোখে পড়েনি গ্রাহকদের। তারা বলছেন, ডেস্কে লোক না দেখে পাশের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করে গ্রাহকরা জেনেছেন তিনি অসুস্থ। কিন্তু তিনি করোনা আক্রান্ত তা বলেনি কর্তৃপক্ষ। বা ব্যাংকটিতে এখন যারা কাজ করছেন তাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে কি না এ বিষয়েও সন্দেহ রয়েছে। অনেকটা আতঙ্কে ব্যাংকে কাজ করছেন তারা।
এ ব্যাপারে খুলনা সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ বলেন, এখন আসলে ব্যাংকের শাখা বন্ধ রাখার আইনি কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের আইসোলেশনে নিতে হবে। তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছে তাদের নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের ভেতরে নিরাপদ শারীরিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বেসিক ব্যাংক খুলনা শাখা নয় মহানগরীর কোনো ব্যাংকেই নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এজন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ