মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কাতারে তালেবানের বৈঠক নিয়ে এতো আগ্রহ কেন?

১৬ সেপ্টেম্বর, বিবিসি বাংলা : কাতারের রাজধানী দোহায় চলছে আফগান শান্তি আলোচনা। আফগানিস্তানের মার্কিন সমর্থিত সরকার ও তালেবানের মধ্যে এতো বৃহৎ পরিসরে এটিই প্রথম মুখোমুখি আলোচনা। সমঝোতা চেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পেন্স-ও এতে অংশ নিয়েছেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহেই দোহায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে কাতারের এই বৈঠকের দিকে আফগান জনগণের যতটা নয়, তার চেয়ে হয়তো বেশি আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে আফগানিস্তানের দুই প্রতিবেশী- ভারত ও পাকিস্তান। ভবিষ্যতে আফগানিস্তানে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে দোহার এই বৈঠকে কী মীমাংসা হয় তার সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই বৈরী প্রতিবেশীর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

যেদিন থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারে তার সংকল্পের কথা প্রকাশ করেন, তখন থেকেই ভারত ও পাকিস্তান ভবিষ্যতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে বিশেষ তৎপর হয়েছে।

ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই আফগানিস্তানে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা চায়। তবে কীভাবে তা নিশ্চিত হবে তা নিয়ে তাদের অবস্থানে বিশাল ফারাক। অধিকাংশ পর্যবেক্ষক মনে করেন, আফগানিস্তানে ২০ বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান যতটা না চিন্তিত তার চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ভবিষ্যতে সেখানে তারা দুই দেশ কে কাকে বেশি ঘায়েল করতে পারবে তা নিয়ে।

ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বিশ্লেষক হাসান আসকার রিজভি বিবিসি-কে বলেন, পাকিস্তান এখন সত্যিই আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা চাইছে। কিন্তু তারা চায় এমন একটি সরকার কাবুলে ক্ষমতায় থাকবে যাদের সঙ্গে ভারতের চেয়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা বেশি হবে। পাকিস্তান মুখে সব সময় বলে যে, তাদের প্রধান চিন্তা আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা। কোন সরকার কাবুলের ক্ষমতায় বসলো সেটা তাদের বিবেচনা নয়। কিন্তু হাসান আসকার রিজভি মনে করেন, পাকিস্তান চায় ভবিষ্যতে কাবুলে যে সরকারই আসুক না কেন তালেবান যেন তার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়।

কেন তালেবানের ওপর পাকিস্তান এত ভরসা করছে? হাসান আসকার রিজভি বলেন, ‘যদিও বিষয়টি এমন নয় যে, তালেবান এখন পাকিস্তানের কথায় উঠাবসা করে, সেটা যারা ভাবেন তারা ভেতরের খবর ঠিকমত জানেন না। কিন্তু তারপরও ইসলামাবাদ মনে করে তালেবান ভারতের চেয়ে পাকিস্তানকে প্রাধান্য দেবে। তালেবানের কাছে ভারত একটি অমুসলিম দেশ। তাদের কাছে বিষয়টা খুব স্পষ্ট।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ