বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চীনা সৈন্যরা ঘাঁটি গেড়েছে লাদাখে

স্টাফ রিপোর্টার : লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল পার করে বহু চীনা সৈন্য ঘাঁটি গেড়েছে লাদাখে। সংসদে এমনটাই জানালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে ভারত-চীন সংঘাত প্রসঙ্গে মুখ খোলেন রাজনাথ সিং। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, ভারত-চীন সংঘাত এখনও মেটেনি।
এদিকে লাদাখ সীমান্তে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে এবার অপটিক্যাল ফাইবার কেবল পাতছে চীন। সরকারের দুই শীর্ষ সূত্রকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি-র একটি রিপোর্টে এমনই দাবি করা হয়েছে। উপগ্রহ চিত্র থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে এমন তথ্য এসেছে। চীনের এই পদক্ষেপ দেখে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কূটনৈতিক স্তরে যতই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলুক না কেন, লাদাখে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাতের পরিস্থিতি বজায় রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভঙ্গ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ৩৮,০০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চীন দখলদারির চেষ্টা করেছে। তিনি জানিয়েছেন ১৯৬০ সাল থেকে একটা চুক্তি হয়েছিল। তাই এই সংঘাত মেটাতে ধৈর্য্য ধরা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। সেইসঙ্গে এও বলেন, শান্তি রক্ষা অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনাথ বলেন, লাদাখে যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি আমরা। সেখানে মোতায়েন সেনা জওয়ানদের সাহস ও উৎসাহ অপরিসীম। দেশের ১৩০ কোটি মানুষ তাদের সঙ্গে রয়েছে। তাদের জন্য টেন্ট, গোলবারুদ, অস্ত্র সবই পর্যাপ্ত পরিমাণে দেওয়া হয়েছে। চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে আমার এই নিয়ে কথা হয়েছে। তাদের সেনা পদক্ষেপের প্রতিবাদ করেছি। সাফ জানিয়ে দিয়েছি, ভারত নিজের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। সূত্র: কলকাতা২৪।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করলে অনেক নিরাপদভাবে তথ্যের আদান-প্রদান করা যায়।  যা সহজে চুরি করা যায় না।
ফরওয়ার্ড পোস্টে থাকা বাহিনীর সঙ্গে সেনাঘাঁটির যোগাযোগ রক্ষার জন্যই অপটিক্যাল ফাইবার কেবল পাতা হচ্ছে।
আপাতত প্যাংগং তাসো লেকের দক্ষিণে নিজেদের এলাকায় এই ধরনের কেবলের ফাঁদ পাতার কাজ চীন শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইলে কোন মেলেনি।
এই মুহূর্তে প্যাংগং তাসো লেকের দক্ষিণে বেশ কয়েকটি জায়গায় মাত্র কয়েকশো মিটারের ব্যবধানে অবস্থান করছে চীন এবং ভারতের সেনাবাহিনী। এই অবস্থায় অপটিকাল ফাইবার কেবলের মাধ্যমে চীনা সেনারা দ্রুত তথ্যের আদান-প্রদান করতে সক্ষম হলে তা ভারতীয় বাহিনীর কাছে উদ্বেগেরই বিষয়। যোগাযোগ রক্ষার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী রেডিও কমিউনিকেশনের উপরেই নির্ভরশীল। এই যোগাযোগের মাধ্যমে কী তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে, শত্রুপক্ষ আঁড়ি পেতে তা জেনে নিতে পারে।
কিন্তু অপটিক্যাল ফাইবারের ক্ষেত্রে সে রকম কোনও আশঙ্কা নেই বললেই চলে। পাশাপাশি অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ছবি, ডকুমেন্ট আদান-প্রদান করা সম্ভব।
লাদাখের একাধিক জায়গায় ভারতীয় সেনার কাছে ধাক্কা খেয়ে এবার অরুণাচলের দিকে নজর দিয়েছে লাল ফৌজ। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চীন সীমান্তের অন্তত চারটি জায়গায় সীমান্ত বরাবর সেনা সমাবেশ করছে চীন।
অরুণাচলের সাফিলা, তুতিং, চ্যাং জে ও ফিসটালি সেক্টরে সীমান্তের ওপারে চীনা ভূখণ্ডে জড়ো হচ্ছে চীনা সেনা। ভারত-চীন সীমানা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে পিএলএ। এমনটাই সূত্রের খবর। আশঙ্কা করা হচ্ছে এলাকার কিছু পাহাড়ি এলাকার দখল নিতে পারে চীনা সেনা। গত কয়েক দিন ধরেই তারা নিজেদের এলাকায় রাস্তাসহ অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি করতে লেগেছে।
চীনা সেনার গতিবিধির কথা মাথায় রেখে এলএসি-র সব সেক্টরে সতর্ক করা হয়েছে ভারতীয় সেনাকে।  ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, চীনা টহলদারি সেনা আগের থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার অনেক কাছে চলে আসছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এভাবেই ভুটান সীমান্তের ডোকা লা-য় ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করেছিল চীনা সেনা। ভারতীয় জওয়ানরা রুখে দাঁড়াতেই তারা শেষপর্যন্ত সরে যায়। টানা ৭২ দিন ধরে চলেছিল সেই অচলাবস্থা।
প্রসঙ্গত, লাদাখ উত্তেজনার মধ্যেই পূর্ব লাদাখের প্যাংগং লেকের দক্ষিণে একাধিক পাহাড়ী এলাকা দখল করে নিয়েছে ভারতীয় সেনা। পরিস্থিতি এমনই যে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে দুদেশের সেনা। এছাড়াও চুশুলেও একাধিক জায়গায় ঢুকেছে ভারতীয় জওয়ানরা। ফলে চাপে রয়েছে চীনা সেনা। খবর সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ