মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক সম্প্রসারণে প্রয়োজনে আরো জমি দেবে সরকার -প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : দেশজ প্রত্যেকটা উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ কথা বলেন তিনি। একনেক সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব আসাদুল ইসলাম, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আবুল কালাম আজাদ, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র সদস্য শামীমা নার্গিস এবং আইএমইডির সচিব প্রদীপ কুমার দাস।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ শিরোনামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন, দেশজ যা কিছু আছে উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রত্যেকটাকে আমরা সংরক্ষণ করবো। শামুক নিয়ে প্রকল্প আছে, ঝিনুককেও আনতে হবে। কাঁকড়াকেও আনতে হবে। বাংলাদেশের যা প্রাণিজ, জলজ, ভূমিজ সম্পদ আমাদের আছে, প্রত্যেকটা আইটেমকে কাজে আনতে হবে।’
নিজের মতামত তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘শামুক আমাদের দেশের অনেক নাগরিক খায়, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের। সুতরাং এটা দেশের ভালো কমার্শিয়াল আইটেম। আমি না খাই, আপনি তো খেতে পারেন।’
প্রকল্পের বিষয়ে বলতে গিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘মূল বার্তা হলো দেশি প্রজাতির মাছ। এগুলোকে বাঁচানো, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করা। তার সঙ্গে সঙ্গে শামুক, যা একটি জলজ প্রাণী। শামুক নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী খুবই খুশি যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। কারণ, উনার (শেখ হাসিনা) বাড়ি ওই অঞ্চলে। ছোটবেলায় শামুক-টামুক দেখেছেন। ওই এলাকায় শামুক থেকে চুন তৈরি হয়। কোটালিপাড়ায় চুন হয়। উনি (প্রধানমন্ত্রী) মনে করেন, আপনারা যে গুণগান করছেন শামুক নিয়ে, হাঁসের খাবার হয়। আরেকটা যে কাজ হয়, সেটা মনে আছে? চুন হয়।’
এম এ মান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা শুধু মানুষের স্বাধীনতা নয়, বাংলার প্রকৃতি পরিবেশ সংরক্ষণ হলো আমাদের আরেকটা উদ্দেশ্য। আমরা নাগরিকরা যারা মানুষ, প্রকৃতির সামান্য অংশ। সুতরাং আমাদের শামুক, টেংরা-পুঁটি– এদেরও সংরক্ষণ করা উচিত। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য তাই।’
দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পসহ চারটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪৪০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা থেকে ৯৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা খরচ করা হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘শামুক সংরক্ষণের পাশাপাশি ঝিনুক সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক যদি আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন হয় তাহলে জমি দেবে সরকার।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিরূপনে আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের মাধ্যমে ঢাকার জন্য একটি ম্যাপও তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসন সংকট কাটাতে উদ্যোগ রয়েছে। ফলে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটবে। শামুক ও দেশীয় মাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশীয় সব প্রাণীই সংরক্ষণ করা হবে পর্যায়ক্রমে। স্বাধীনতা শুধুই মানুষের নয়, সব প্রাণীর থাকা উচিত।’
একনেকে অনুমোদিত ৪ প্রকল্প
আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট রাজউক প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১০৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে ১৪৭ কোটি টাকা, দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ হবে ২০২ কোটি টাকা। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের অ্যাপ্রোচ সড়ক প্রশস্তকরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ