ঢাকা, বুধবার 30 September 2020, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ১২ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী খিচুড়ি রান্না শেখা, পুকুর খননের প্রশিক্ষণ, পাবদা মাছ চাষ ইত্যাদির প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য সরকারী কর্মকর্তাদেরকে বিদেশ প্রেরণকে ‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’ অভিহিত করে বলেছেন, এগুলো মূলত মিডনাইট নির্বাচনে সহায়তা করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের উপঢৌকন দেওয়া। 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি সংবাদের প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। খিচুড়ি রান্না প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানো হচ্ছে। ইতোপূর্বে পুকুর খননের প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানো হয়েছিল। এ ছাড়া পাবদা মাছ চাষের প্রশিক্ষণ নিতে সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশে গিয়েছিলেন। এসব অভিনব ও হাস্যকর তামাশা কেবল শেখ হাসিনার আমলেই সম্ভব।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আবহমানকাল ধরেই উল্লিখিত বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের রপ্ত। অথচ সেসব বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানোতে একটি প্রবাদ মনে পড়ে যায়- ‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’। মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে ফালতু কাজে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ পাঠানো মূলত মিডনাইট নির্বাচনে সহায়তা করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের উপঢৌকন দেওয়া। যে সরকারের আমলে একটা বালিশের দাম সাড়ে সাত হাজার টাকা এবং একজন রোগীকে আড়াল করতে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকার পর্দা লাগে সেই সরকার যে আগাগোড়াই লুটপাটের চেতনায় অনুপ্রাণিত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুই দিন আগে বলেছেন, ‘বিএনপি চিরাচরিত মিথ্যাচার করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, বিএনপি বলেছে এই সরকার করোনা রোগীদের পরিসংখ্যানে ৮২ হাজার রোগীর নাম বাদ দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ৮২ হাজারের তথ্য কোথায় পেয়েছেন এবং এই তালিকা জানতে চেয়েছেন।

‘ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশে বলতে চাই, বানোয়াট এবং অসত্য কথা বলার ফেরিওয়ালা আপনারা। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখের বহুল প্রচারিত নিউ এজ ইংরেজি পত্রিকাটির প্রধান শিরোনাম দেখুন। ৮২ হাজার নয়, ৮৪ হাজার করোনা রোগী সরকারের ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ডিজি হেলথ সার্ভিস কি সরকারি নাকি বিরোধীদলীয় প্রতিষ্ঠান? এটি প্রত্যক্ষভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। তাদের ডাটাবেজ থেকে ৮৪ হাজার রোগীর নাম হারিয়ে গেল কীভাবে? এই তথ্যটি এমন একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যেটি জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম। এই সংবাদ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে-সরকারি ডাটাবেজে এলাকাভিত্তিক করোনার সংখ্যা ও সংক্রমণের হারেরও তেমন তথ্য নেই। এখন আমি বলতে চাই-উল্লিখিত পত্রিকাটি পাঠ করে ওবায়দুল কাদের সাহেবের নিজের আত্মমর্যাদার কথা চিন্তা করে এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা উচিত। জনসম্মুখে ডাহা মিথ্যা উল্লেখ করার পর একজন মন্ত্রীর কোনোক্রমেই দায়িত্বে থাকা তাঁর মর্যাদার সঙ্গে বেমানান।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সরকার শুরু থেকেই করোনা রোগীর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করেছে। জাতির সামনে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে না। করোনার টেস্ট কমিয়ে দিয়ে করোনা রোগী নেই বলে জনগণকে ধাপ্পা দিয়ে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এই ধাপ্পাবাজির উদ্দেশ্য হচ্ছে করোনা থেকে জনদৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য একরামুল হক বিপ্লব, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা জাহিদুর রহমান, মোরশেদ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ