মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলো ভারত

স্টাফ রিপোর্টার : অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় নিজ দেশের বাজারে দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশে। হিলির কাস্টমস কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট শংকর দাস এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়েও হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। গতকাল সোমবার সকাল থেকে ভারতীয় কোনো পেঁয়াজের ট্রাক ভোমরা স্থলবন্দরে প্রবেশ করেনি। তবে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ব্যাপারে লিখিতভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি।
হিলির কাস্টমস কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট শংকর দাস বলেন, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হওয়ায় যেসব অঞ্চলে পেঁয়াজ উৎপাদন হতো সেখানে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার কারণে পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ভারত সরকার হিলি কাস্টমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সে মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, গতকাল সোমবার থেকে সব ধরনের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত। এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন এখনও জারি হয়নি, তবে অচিরেই জারি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব এলসি খোলা রয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর বিপরীতেও কোনও পেঁয়াজ রফতানি হবে না।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন, কিছুক্ষণ আগে ভারতীয় রফতানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট আমাদের জানিয়েছেন যে ভারত কোনও পেঁয়াজ রফতানি করবে না। ভারত সরকার নাকি কাস্টমসকে নিষেধ করেছেন পেঁয়াজ রফতানি না করতে এবং পেঁয়াজ রফতানি করবে না বলেও বলেছে আমাদের। তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের অনেক আমদানিকারকের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা রয়েছে। আমরা তো এখন বিপাকের মধ্যে পড়ে গেছি। আমরা তাদের বলছি আমাদের যেসব এলসি খোলা রয়েছে সেগুলোর পেঁয়াজ রফতানির জন্য। আমাদের অনেক এলসির বিপরীতে অনেক ট্রাক মাল নিয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখন যদি তারা পেঁয়াজ না দেয় তাহলে আমাদের এই পেঁয়াজের কী অবস্থা হবে সেই চিন্তায় পড়েছি। এই যে আমাদের ক্ষতি, কার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবো? তাই বিষয়টি অতি সত্তর সরকারি পর্যায়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। সকাল থেকেই কোনো পেঁয়াজের ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি। তিনি বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে গেলে দাম নির্ধারণ করে দেয় ন্যাপেট নামে একটি সংস্থা। বর্তমানে এক টন পেঁয়াজের রেট চলছে ৩০০ ডলার। সেটি সম্ভবত ৫০০ বা ৭০০ ডলার নির্ধারণ করবে। সে কারণে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মাকসুদ খান বলেন, বর্তমানে যে রেটে ভারতীয় রফতানিকারকরা পেঁয়াজ রফতানি করছেন সেটিতে তাদের লোকসান হচ্ছে। যে কারণে ন্যাপেট পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে। এছাড়াও ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন কম। মূলত উৎপাদন কম ও কম মূল্যে রফতানি করতে না পারায় ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টমস সহকারী কমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ৮৫টি ট্রাকে ১৮৭০ মেট্রিক টন, ৭ সেপ্টেম্বর ৭৮টি ট্রাকে ১৮৯৭ মেট্রিক টন, ৮ সেপ্টেম্বর ৭৪টি ট্রাকে ১৭৩০ মেট্রিক টন, ৯ সেপ্টেম্বর ৮৮টি ট্রাকে ২১৪৩ মেট্রিক টন, ১০ সেপ্টেম্বর ৫৪টি ট্রাকে ১২৬২ মেট্রিক টন, ১২ সেপ্টেম্বর ৮২টি ট্রাকে ১৭৯৮ মেট্রিক টন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৭৪টি ট্রাকে ১৭৩৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এদিকে গতকাল সোমবার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। সকাল থেকে কোনো পেঁয়াজের ট্রাক ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি।
ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মহসিন হোসেন বলেন, সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভারতীয় কোনো পেঁয়াজের ট্রাক বন্দর দিয়ে প্রবেশ করেনি। পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের কোনো কারণও জানা যায়নি। লিখিতভাবে ভারতের ঘোজাডাঙা বন্দর কর্তৃপক্ষও কিছু জানায়নি। তবে শুনছি ভারত পেয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ