মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মিরসরাইয়ে পাহাড়ের কোলে আকবরের ফলের বাগান

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: ২০০২ সালে বারইয়ারহাট কলেজ থেকে ডিগ্রী পাস করে রাজধানী ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে কয়েক বছর চাকরি করেছেন তিনি। যা বেতন পান তাতে চলে না। সংসারে টানাপোড়েন লেগেই থাকে। তাই চাকরি ছেড়ে এলাকায় এসে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেন। শ্রমিকদের বেতন দিয়ে হিসাব করে মাস শেষে খুব বেশি টাকা থাকে না। তখন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো কিভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। এমন চিন্তা থেকে পাহাড়ে দুই একর জায়গা লিজ নিয়ে ১০১৮ সালে ফলের বাগান শুরু করেন তিনি। এক বছর পরই গাছে ফল আসা শুরু হয়। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খিলমুরারী এলাকার মনির আহমেদ মাস্টারের পুত্র মোঃ আকবর হোসেনের জীবনের কথা। পাহাড়ের বুকে গড়ে তুলেছেন ‘ফিউচার এগ্রো হোমস’ নামে সমন্বিত ফলের বাগান। যা প্রেরণা যোগাচ্ছে বেকার যুবকদের। দৃঢ় মনোবল আর কঠোর পরিশ্রমের কারণে আকবর এখন সফল উদ্যোক্তা। তাঁর বাগানে ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু ফল যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

 সরেজমিনে ‘ফিউচার এগ্রো হোমস’ এ গিয়ে দেখা গেছে, পাহাড়ের ঢালুতে গাছের মধ্যে থোকায় থোকায় ঝুলছে মাল্টা। গাছের মধ্যে পাকা আধা পাকা পেঁপে দেখে মনটা ভরে যায়। ফলন এসেছে কমলা গাছেও। বাগানে প্রবেশ করতে চোখে পড়লো ছোট একটি সাইনবোর্ডে লেখা ‘আলহামদুলিল্লাহ’, একটু পরে আরেকটি সাইনবোর্ডে চোখে পড়লো ‘মাশাআল্লাহ’। পাহাড়ের বুকে এমন ফলের বাগান দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ।

 মোঃ আকবর হোসেন জীবন জানান, পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর চাকরি, ছোটখাটো ব্যবসা কিছুতেই আমার মন বসছে না। পোলট্রি ব্যবসার জন্য একজন থেকে জায়গাও নিয়েছিলাম, পরে করা হয়নি। এরপর ওমান যাওয়ার জন্য দ্রুত পাসপোর্ট বানিয়েছি, মেডিকেল করে রিপোর্ট পাঠিয়েছি কিন্তু ভিসা না হওয়ার কারণে যেতে পারিনি। মনস্থির করলাম দেশে কিছু একটা করা প্রয়োজন। তখনই ২০১৮ সালে বাড়ির পূর্বপাশে পাহাড়ে দুই একর জায়গা লিজ নিয়ে বিভিন্ন ফলের চারা রোপন করলাম। ২৫০ পিস বারি-১ ও বাউ-৩ গ্রীণ মাল্টা, ১শ’ পিস পেয়ারা, ২শ’ পিস রেডলেডি, ফাষ্টলেডি পেঁপে, ৬০ পিস কমলা, থাই পেয়ারা, ১শ’ পিস লেবু, ১১ পিস আপেল, ৩ পিস আল বোখরা ও কিছু চায়না-৩ লিচু চারা রোপণ করেছি। এক বছর পরই গাছে ফলন এসেছে। ২০১৯ সালে প্রায় ৭০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছি। পেয়ারা বিক্রি করেছি ৪০ হাজার টাকার। এ বছর মাল্টা বিক্রি শুরু করেছি। এই পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি এবং গাছে যে পরিমাণ মাল্টা রয়েছে আরো দেড় লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবো বলে আশাবাদী। আমার বাগানের ফলে কোন ধরনের মেডিসিন ও ফরমালিন ব্যবহার করা হয় না। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে আগামী বছর তাহলে আমি ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

 তিনি আরো জানান, আমি ইউটিউব চ্যানেলে দেখে দেখে সব শিখেছি। কিভাবে চারা রোপণ করতে হবে, কিভাবে পরিচর্চা করতে হবে। সহযোগিতার জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে কয়েকবার গিয়েছি, কিন্তু তারা কোন সহযোগিতা করেনি। একবার একজন কৃষি উপসহকারী বাগান পরিদর্শন করে গেছেন ঠিকই পরে কোন সহযোগিতা পাইনি। এ পর্যন্ত আমার প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আগামীতে আমার আরো পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে যেমন অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের কৃষকরা উচ্চশিক্ষিত। তাই আমাদের দেশেও শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকরির আশা না করে নিজে উদ্যেক্তা হওয়ার অনুরোধ করবো।

 ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, আমি আকবর ভাইয়ের ফলের বাগান ফিউচার এগ্রো পরিদর্শনে গিয়েছি। পাহাড়ের কোলে এত সুন্দর বিভিন্ন ফলের বাগান আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে। উনার বাগানের বিভিন্ন ফলও আমি সংগ্রহ করেছি। অনেক সুস্বাদু ও ফরমালিনমুক্ত। আমি আশা করবো আকবর ভাই থেকে দেখে আরো অনেকে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

 এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, আকবর হোসেন নামে কোন ফল বাগানের উদ্যেক্তা আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। যোগাযোগ করলে অবশ্যই আমরা সহযোগিতা করতাম। আপনি (প্রতিবেদক) উনার মোবাইল নম্বর দেন আমি উনার সাথে যোগাযোগ করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ