মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কুয়াকাটা সৈকতে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ব্লক ও কংক্রিট পর্যটকদের জন্য বিপদজনক 

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকতে যত্রতত্র পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ব্লক, কংক্রিট, ইট সুরকী ও গাছের গুঁড়ি এখন পর্যটকদের কাছে বিপদজনক। জোয়ারের সময় পর্যটকরা সমুদ্রে গোসলে নামলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। সৈকতে ওঠা-নামা সম্মুখভাগ জিরো পয়েন্টসহ প্রায় ১শ’ মিটার বেলাভূমিতে এখন দুশ্যমান। দেখভালের দায়িত্বে থাকা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও পৌরসভার এগুলো অপসারণ করার কথা থাকলেও তারা দেখে না দেখার মতো ভান করছে

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকতে বিচ্ছিন্নভাবে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ব্লক, কংক্রিট, ইট, সুরকী ও গাছের গুঁড়ি এখন পর্যটকদের জন্য অতি বিপদজনক। জোয়ারের সময় পর্যটকরা সমুদ্রে গোসলে নামলে প্রতিনিয়ত দূঘর্টনার কবলে পড়তে হয়। সৈকতে ওঠা-নামা ও জিরো পয়েন্টসহ প্রায় ১শ’ মিটার বেলাভুমিতে এখন এসকল পরিত্যক্ত বস্তগুলো দৃশ্যমান। দেখভালের দায়িত্বে থাকা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও পৌরসভার এগুলো অপসারন করার কথা থাকলেও তারা দেখেও না দেখার ভান করছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটিতে কোন প্রকার সর্তকতা বা নির্দেশনামূলক চিহৃ না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আগত পর্যটকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলতি বর্ষামৌসুমে প্রচন্ড ঢেউয়ের ঝাপটায় বালু ক্ষয়ে সম্প্রতি বালুর ওপর জেগে ওঠে পরিত্যক্ত ব্লক, কংক্রিট, ইট, সুরকী ও গাছের গুড়ি। ঝড়, জলোচ্ছাস ও ঢেউয়ের তান্ডবে উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছ। গাছ আপসারন হলেও গুড়িগুলো পড়ে রয়েছে যত্রতত্র। এতে পর্যটকদের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কুয়াকাটা সৈকতের প্রবেশদ্বারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) এর অর্থায়নে বায়ো-গ্যাস প্ল্যান্ট কাম রেস্ট হাউস ২০০৭ সালের নভেম্বরে সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। পরে এলজিইডি ওই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি নিলামে বিক্রি করে দেয়। এ ভবনটির বেশ কিছু ভাঙ্গা অংশ সৈকতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এর ফলে সৈকতে পর্যটকরা নির্বিঘেœ হাটাচলা করতে পারছেনা। প্রতিনিয়তই আঘাত পাচ্ছে পর্যটকরা এমন আভিযোগ রয়েছে । 

ফটোগ্রাফার রাজু জানান, পর্যটকদের এমন বিড়ম্বনা থেকে নিস্তার দিতে তারা নিজেদের উদ্যোগে ঝুকিপুর্ণ স্থানগুলোতে বাঁশ পুতে লালকাপড় টানিয়ে দিয়েছিলেন। প্রচন্ড ঢেউয়ের তোড়ে তা এখন আর নেই। পর্যটক ফাহিমা  বলেন, জোয়ারের সময় সৈকতে গোসল করতে গিয়ে কংক্রিটের ভাঙ্গা অংশে ডান পা কেটে গেছে। পাঁচ দিনের ট্যুরে এসে আহত হয়ে ওইদিনই পরিবারের কাছে ফিরতে হয়েছে। তবে পর্যটকদের কথা বিবেচনায় রেখেই কুয়াকাটা সমুদ্্র সৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিৎ বলে তিনি মনে করেন। 

ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) এর সেক্রেটারি জেনারেল মো: আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, সৈকতের সম্মুখভাগে পড়ে থাকা কংক্রিট খন্ডগুলো প্রমাণ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন পর্যটকবান্ধব নয়। জোয়ারের সময় সমুদ্রে গোছল করতে নেমে প্রতিদিনই কোন না কোন পর্যটক আহত হচ্ছে। এভাবে যত্রতত্র পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ব্লক, কংক্রিট, ইট, সুরকী ও গাছের গুড়ি সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। তাই এগুলো অপসারনের দাবী জানিয়েছেন তিনি। 

কুয়াকাটা পৌর মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, অবিলম্বে সৈকতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কংক্রিট খন্ডগুলি সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, গত বছর আমরা কিছু ভাঙ্গাঅংশ অপসারন করেছিলাম, চলতি বছর আবারও বালু নিচের চাপা পড়া কংক্রিট ও ব্লক ক্ষয়ে বেলাভূমিতে জেগে ওঠেছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের চলতি দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক বদরুল কবির বলেন, সৈকতের সম্মুখভাগের ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্থানে পর্যটকদের নামতে নিরুৎসাহিত করলেও পর্যটকদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা পরিত্যক্ত ব্লক, কংক্রিট, ইট সুরকী অপসারনের তাগিদ দিয়েছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

 কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, পর্যটকদের সমস্যা নিরসনে যত্রতত্র পড়ে থাকা এসব কংক্রিট ও ব্লকগুলো পাউবো’র সাথে কথা বলে খুব দ্রুত অপসারন করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ