বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

যানবাহনে জীবনবিনাশী সিলিন্ডারবোমা

মহানগরী ঢাকাসহ সারাদেশে ৪ লাখেরও অধিক প্রাইভেট কার, পিক আপ, অটোরিকশা, লেগুনা, মিনিবাস, বাস ও ট্রাক এখন সিলিন্ডারগ্যাসে চলে। প্রায় ১৫-২০ বছর আগ থেকে পেট্রোল ও ডিজেল চালিত এসব যানবাহন সিলিন্ডারগ্যাস চালিত যানবাহনে রূপান্তরিতকরণ শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৫ বছর পরপর যানবাহনের সিএনজি সিলিন্ডার রিটেস্টিং করবার কথা। কিন্তু অল্পসংখ্যক যানবাহনের গ্যাস সিলিন্ডার রিটেস্ট করা হলেও ৩ লাখের অধিক সিএনজি চালিত যানবাহনের সিলিন্ডার রিটেস্টিং ছাড়াই দিব্যি চালানো হচ্ছে। ফলে যেকোনও সময় এসব চলন্ত বোমার বিস্ফোরণে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
সারাদেশে গত ৩/৪ বছরে দুই শতাধিক সিএনজি চালিত যানবাহনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে সম্পদের ক্ষতি ছাড়াও ৫ শতাধিক মানুষের জীবনহানি ঘটেছে। উল্লেখ্য, অনেক যানবাহনে যাত্রী বসবার সিটের নিচে গ্যাসসিলিন্ডার সেট করা থাকে। কোনওভাবে সামান্য আঘাতে এগুলোর বিস্ফোরণ ঘটলে প্রথমেই যাত্রীরা এফেক্টেড হয়। অনেকে গ্যাসের আগুনে পুড়ে সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। সিলিন্ডারগ্যাসের আগুনে পোড়া মানুষদের হাসপাতালে নিলেও আহতদের অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হয় না। দুয়েকজন প্রাণে বাঁচলেও সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায়। এই হচ্ছে সিএনজি চালিত যানবাহনের দুর্ঘটনাকবলিত হতভাগ্য যাত্রীদের ট্র্যাজেডি।
যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেবার সময় সিএনজি সিলিন্ডারও টেস্ট করবার কথা। এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে জোড়াতালি দিয়ে সিএনজি সিলিন্ডার প্রস্তুত হয় বলে এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এগুলো রিটেস্টিংয়েও ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। আকারভেদে সিলিন্ডার টেস্টিংয়ের জন্য খরচ পড়ে দুই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। একদিকে সময়ের অপচয় এবং অর্থ ব্যয়। দুটোই এড়িয়ে যেতে চান যানবাহনের মালিকরা। ফলে প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবৎ রিটেস্টিং ছাড়াই উল্লেখিত সংখ্যক সিএনজি চালিত যানবাহন রাস্তায় যাতায়াত করছে। অথচ এসব গ্যাসসিলিন্ডার একেকটি চলন্ত বোমার মতোই ধ্বংসাত্মক। যেকোনও মুহূর্তে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটিয়ে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি করতে পারে। অবশ্য  এর আগে পুলিশকে যানবাহন আটক করে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ধ্বংস করতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এভাবে ৩ লাখের অধিক যানবাহনের সিলিন্ডার চেক করে ধ্বংস করতে কত বছর লাগবে এবং মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কত সংখ্যক হতভাগ্য যাত্রীর প্রাণ যাবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলতে পারেন?
প্রাইভেট কারের মালিকরা নিজেদের নিরাপত্তার বিষয় গুরুত্ব দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়মমাফিক রিটেস্ট করালেও সাধারণ যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস, অটো রিকশা, লেগুনার গ্যাস সিলিন্ডার সময়মতো রিটেস্ট করা হয় না বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ