বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কাঁচাপাট রফতানি বন্ধের দাবি

কাঁচাপাটের নিশ্চিত সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে পাট শিল্পের প্রধান দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে এবার কাঁচাপাট রফতানি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গেছে, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত যৌথ  সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, রফতানি বন্ধের পাশাপাশি চোরাচালান বন্ধ না করা হলে দেশের পাটশিল্প ভয়ংকর সংকটে পড়বে। 

কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংগঠন দুটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রচন্ড খরা এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কারণে এবার এমনিতেই পাটের উৎপাদন অনেক কম হয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় চলতি বছরে প্রায় ১০ লাখ বেল কম পাট উৎপাদিত হবে। অন্যদিকে উৎপাদিত হয়েছে ধারণার চাইতেও অনেক কম। এর ফলে বাজারে পাটের দাম বেড়ে চলেছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মাত্র কিছুদিন আগে সংগঠন দুটি যখন মূল্য নিয়ে সভা করেছিল তখন প্রতিমণ কাঁচাপাটের দাম ছিল ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু সংকটের লক্ষণ দেখা দেয়া মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই দাম বেড়ে গেছে আড়াইশ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে প্রতিমণ কাঁচাপাট বিক্রি হচ্ছে ২৭৫০ থেকে ২৮৫০ টাকা পর্যন্ত। জানা যাচ্ছে, দাম আরো বাড়তে পারে। অথচ এখন পাটের ভরা মৌসুম চলছে। এ সময়ে পাটের দাম এত বেশি বাড়বে সেটা সংশ্লিষ্টদের কেউ ধারণাও করতে পারেননি। 

একই কারণে শিল্পমালিক ও রফতানিকারকরা আশংকা করছেন, মূল্যবৃদ্ধির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বিশেষ করে বিদেশি ক্রেতারা নিরুৎসাহিত হবেন এবং বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক পাটের বাজার হারাবে। অমন আশংকার পরিপ্রেক্ষিতেই তারা একদিকে কাঁচাপাটের রফতানি নিষিদ্ধ করার এবং চোরাচালান বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন, অন্যদিকে প্রতি মেট্রিক টন কাঁচাপাট রফতানির জন্য ২৫০ মার্কিন ডলার রফতানি শুল্ক আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন।

কারণ ও যুক্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিল্পমালিক ও রফতানিকারকরা বলেছেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর যেখানে সাধারণত প্রায় ৭৫ লাখ বেল কাঁচাপাট উৎপাদিত হয় এবছর সেখানে হতে পারে প্রায় ৫৫ লাখ বেল। ফলে ঘাটতি হবে অন্তত ২০ লাখ বেল পাটের। দেশিয় শিল্পের জন্য প্রয়োজন পড়বে প্রায় ৬০ লাখ বেল, অন্যদিকে দেশের গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য লাগবে প্রায় ৫ লাখ বেল। অর্থাৎ দেশের অভ্যন্তরে পাটশিল্পের জন্য প্রয়োজন পড়বে ৬৫ লাখ বেল। কিন্তু হিসাবে দেখা যাচ্ছে, দেশে প্রায় ১০ থেকে ২০ লাখ বেল পাট কম রয়েছে। সে কারণে দেশ বিরাট ঘাটতির মুখে পড়বে। এজন্যই সরকারের উচিত আগে নিজেদের তথা দেশের চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা এবং তারপর কাঁচাপাট রফতানির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া। 

আমরা বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন যুক্তি ও বক্তব্যকে সমর্থনযোগ্য মনে করি। কারণ, পর্যালোচনায় দেখা যাবে, সংগঠন দুটি দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই কাঁচাপাট রফতানির বিরোধিতা করেছে। চোরাচালান বন্ধের ব্যাপারেও তাদের দাবি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। কারণ, সরকার সকল পাটকল বন্ধ করে দেয়ার ফলে পাটশিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। একই কারণে সংগঠন দুটির যুক্তি এবং দাবি মেনে নেয়া দরকার বলে আমরা মনে করি। এর মাধ্যমে দেশের পাটচাষীদের স্বার্থ যেমন রক্ষা করা সম্ভব হবে তেমনি জাতীয় অর্থনীতির ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা যাবে। আমরা তাই পাট খাতের প্রধান দুই সংগঠনের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ