মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না

মিয়া হোসেন : হিজরী মহররম মাসের ৮ম দিন আজ শুক্রবার। এ মাসে বহু ঐতিহাসিক ঘটনার অবতারণা হয়েছে। শুধু মুসলমান নয় বিশ্বের সকল মানুষের কাছে এ মাস সমধিক গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে এ মাসের দশম তারিখে আশুরার দিনে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। হযরত আইউব (আ.) দীর্ঘদিন রোগাক্রান্ত থাকার পর অবশেষে এ দিনে আরোগ্য লাভ করেন।

পবিত্র কুরআনে সূরা আম্বিয়ার ৮৩-৮৪ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “স্মরণ করুন আইউবের কথা, যখন তিনি তার পালনকর্তাকে আহ্বান করে বলেছিলেন, আমি দুঃখ কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান। অতঃপর আমি (আল্লাহ) তার ডাকে সারা দিলাম এবং তার দুঃখ কষ্ট দূর করলাম।

এদিনেই হযরত দাউদ (আঃ) আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করেছিলেন, হযরত সোলেমান (আঃ) পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছিলেন তার হারানো রাজত্ব। হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেট হতে মুক্তি লাভ করেছিলেন এ দিনেই। হযরত ঈসা (আঃ) পিতা ছাড়া কুমারী মরিয়ম (আঃ) এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন পবিত্র আশুরার দিনে আর এদিনেই তাকে কাফিরদের ষড়যন্ত্রের কারণে আল্লাহ তাকে চতুর্থ আসমানে তুলে নিয়েছিলেন।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ ঘটনাটি পবিত্র কুরআনে এভাবে বর্ণনা করেছেন, “ আর তাদের এ কথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে আর না তাকে শূলে চড়িয়েছে। বরং তারা এরুপ ধাঁধাঁয় পতিত হয়েছিল। বস্তুত তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এ ক্ষেত্রে সন্দেহের মধ্যে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাকে তারা হত্যা করেনি। বরং তাকে উঠিয়ে নিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা তার নিজের কাছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। আর আহলে কিতাবদের মধ্যে যতশ্রেণি রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ঈসার ওপর তাদের মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে।” (সূরা নিসা: ১৫৭-১৫৯)। অত্র আয়াতে আল্লাহ তায়ালা খ্রিষ্টানদের সকল ভুল ধারণা অপনোদন করেছেন। তারা ধারণা করে ঈসা (আঃ) কে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাই তারা যীশুকে শূলে চড়ানোর প্রতীক তৈরি করে তার উপাসনা করে। আর অত্র আয়াতে ঈসা (আঃ) এর আসমানে উত্তোলন এবং কিয়ামতের পূর্বে আবার আগমনের কথা স্বয়ং আল্লাহ নিজে ঘোষণা করেছেন, সাথে সাথে এও বলেছেন যে, সকল শ্রেণির আহলে কিতাব তার ওপর ঈমান আনবে। তবে তিনি নবী হিসাবে আসবেন না বরং মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত হিসাবে আগমন করবেন। সুতরাং সকল ভুল ধারণা দূর করে কুরআনের কথাকেই বিশ্বাস করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ