মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ফিলিস্তিনিদের অগ্নিবার্তা

মানুষ স্বাধীন থাকতে চায়। মহান স্রষ্টা মানুষের মধ্যে স্বাধীন থাকার একটি প্রবণতা দিয়েছেন। একারণেই স্বাধীন থাকার বিষয়টি মানুসের সত্ত্বার সাথে জড়িয়ে আছে। আর আমরা একথাও জানি যে, মানবিক বিকাশের জন্য স্বাধীনতা প্রয়োজন, আনন্দময় জীবন যাপনের জন্যও প্রয়োজন স্বাধীনাতা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানুষ কি সব সময় স্বাধীন থাকতে পারে, কিংবা দেশ কি স্বাধীনভাবে নিজ জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে? এক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় নানা বাধা-বিপত্তি। কোন দৈত্য-দানব কিংবা এলিয়নরা এসে মানুষ বা কোন জাতির স্বাধীনাতর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। মানুষই মানুষের স্বাধীনতার পথে বাধা। মানুষের স্বাধীনতার পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাঁরা কোন ধরনের মানুষ, এদেরকে আমরা কোন নামে অভিহিত করবো?
ফিলিস্তিনিদের কথা আমরা জানি। ভূমিপুত্র হওয়ার পরেও তাদেরকে এখনও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে দেওয়া হয়নি, বরং প্রতিনিয়ত তাদের ভূমি দখল করে নিচ্ছে আগ্রাসী ইসরাইল, তাদের ঘর-বাড়িও ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। ইসরাইলি সেনাদের হামলায় প্রায় প্রতিদিনই নিহত হচ্ছে ফিলিস্তিনি জনগণ। বর্তমান সভ্যতার শীর্ষ নেতাদের সাহায্য ও সমর্থনে ইসরাইল এমন জুলুম ও আগ্রাসন চালিয়ে যেতে পারছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে বহুদিন ধরেই সভ্যতার শাসকরা ইসরাইল, ফিলিস্তিন দুই রাষ্ট্র সমাধানের কথা বলছে কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার চালচিত্রের দিকে দৃষ্টি দিলে সেই রহস্যটিও সহজেই উপলব্ধি করা যায়।
বিশ্ববাসী জানে, ফিলিস্তিনিরা ফিলিস্তিনের ভূমিপুত্র। সবাই একথাও জানে যে, ফিলিস্তিনিরা শুধু অধিকার বঞ্চিত নয়, তারা নির্মমভাবে নির্যাতিত ও নিপীড়িত। তবুও বর্তমান সভ্যতা আন্তরিকভাবে, কার্যকরভাবে তাদের পাশে এস দাঁড়ায়নি। এমন বাস্তবতায় কি বর্তমান সভ্যতাকে মানবিক সভ্যতা বলে বিবেচনা করা যায়? এই অবস্থায় ফিলিস্তিনিরা কী করবে? ফিলিস্তিনিরা কি চুপচাপ সব সয়ে যাবে? মানুষতো স্বভাবগতভাবেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তাই তো ফিলিস্তিনিরা চুপচাপ বসে থাকে না। সামর্থ্য অনুযায়ী তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, স্বাধীনতার পতাকা উড্ডীন রাখে। বর্তমানে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এক অভিনব কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওদের ঘুড়ি ও বেলুনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে ইসরাইল। অগ্নি সংযোগকারী ঘুড়ি ও বেলুনের কৌশলে উচ্ছ্বসিত ফিলিস্তিনি তরুণ-তরুণীরা। ইসরাইলের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের মোকাবেলায় এসব সাধারণ উপায় উপকরণ হয়তো বড় কিছু নয়, তবুও তো স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রতিরোধ আন্দোলন এটি। উল্লেখ্য যে, কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা এই বেলুনযুদ্ধ নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, ইসরাইলের জন্য এটি একটি অশনী সংকেত। আল জাজিরা জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে ৭জন ফিলিস্তিনির একটি দল ইসরাইল ও গাজা উপত্যকাকে পৃথককারী বাফার জোনে ঘাঁটি স্থাপন করেছে। এই দলে রয়েছে বেশ কয়েকটি গ্যাস-সিলিন্ডার দাহ্য পদার্থ, বেলুন এবং একটি পূর্ণ মুখোশ। তারা ইসরাইলে বেলুন ও ঘুড়ি নিক্ষেপ করে থাকে। তারা গুল্ম বা জলপাই গাছের নিচে লুকিয়ে হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে বেলুন পূর্ণ করে, সাথে জুড়ে দেয় ছোট দাহ্য পদার্থ বাতাসের গতি লক্ষ্য করে ফায়ার বেলুনগুলো ছেড়ে দেয় তারা। এটাই ফিলিস্তিনিদের নতুন রণকৌশল। এ ধরনের হামলায় ইসরাইলের বেশ কিছু ফসলের জমিতে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ইসরাইল এটাকে অগ্নি হামলা বলে অভহিত করেছে। ফিলিস্তিনি এই দলের মুখপাত্র আবু ইউসেফ জাজিরাকে বলেন, আমরা ইসরাইলি দখলদারদের অগ্নিবার্তা দিতে এখানে এসেছি। আমরা গাজা উপত্যকায় ১৩ বছর ধরে চলা অবরোধ আর সহ্য করতে পারছি না। ২৪ বছর বয়সী এই যুবক বলেন, পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে আমাদেরও স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন বেছে নেয়ার অধিকার রয়েছে। এখানে উপলব্দি করার মত বিষয় হলো, বর্তমান আণবিক সভ্যতায় ফিলিস্তিনি তরুণদের বেলুনযুদ্ধ হয়তো বড় কিছু নয়, তবুও তাদের এই যুদ্ধ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিপবাদ এবং নিজ ভূমিতে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার যে আকাক্সক্ষা স্পষ্ট হয়েছে, তাকে কি ছোট করে দেখার উপায় আছে? বর্তমান সভ্যতা কখন ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধে এগিয়ে আসবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ