শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সেপ্টেম্বরে মাঠে সক্রিয় হতে পারে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : বৈশ্বিক করোনার মহামারীর কারণে দেশে রাজপথের রাজনীতি কয়েকমাস ধরে অনুপস্থিত। ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজনীতিক দলগুলো তাদের সার্বিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে সক্রিয় হতে পারে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। এর মধ্যে সরকারি দল ঘোষণা দিয়েছে, ১৫ আগস্টের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তারা রাজপথের কর্মসূচিতে আবারো সক্রিয় হবেন। সরকারি দলের এমন ঘোষণায় বিরোধী জোটও রাজপথে কর্মসূচি পালনের চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। করোনার বিদ্যমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তারাও সেপ্টেম্বর থেকে সরাসরি সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালন করবেন। তবে সেগুলো হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই। এই সময়ে বড় ধরনের শোডাউন হতে বিরত থাকবে তারা। সাংবাদিক সম্মেলন, স্বল্প পরিসরে আলোচনা সভার মতো কার্যক্রম চালাবেন তারা। 
এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এখন সকলেই সঙ্কটে রয়েছেন। দেশের মানুষ কঠিন সময় পার করছে। এই সময়ে মাঠের সক্রিয় রাজনীতি না থাকলেও সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীরা ত্রাণ নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে গেছে। আমরা সেই অর্থে কেউ বসে নেই। সকলেই এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান ভার্চুয়াল মাধ্যমেই চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই আমরা আবারো রাজপথের রাজনীতিতে সরব হবো।
করোনাভাইরাসের কারণে স্থবির গোটা বিশ্ব। থমকে গেছে সবকিছু। এর বাইরে নয় রাজনৈতিক দলগুলো। অন্যদের মতোই বন্ধ রয়েছে রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপির মাঠের কর্মসূচি। যদিও বিগত দুই বছর ধরে দলটির মূল এজেন্ডা ছিল কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা। করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর গত ২৫ মার্চ ৬ মাসের জামিনে মুক্ত হয়েছেন তিনি। এতে অনেকটাই নির্ভার দলটির নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে দেশে সাধারণ ছুটি শুরু হয়। ছুটি শেষে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হলেও করোনার সংক্রমণ এখনো ঊর্ধ্বোমুখী। ফলে বেগম জিয়ার চিকিৎসা, দল পুনর্গঠন, সাংগঠনিক তৎপরতা, সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছে বিএনপি। করোনাকালীন সময়ে ত্রাণ তৎপরতা ও ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন, আলোচনা সভা চালিয়ে যাচ্ছেন দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। পরিস্থিতি স্বাভবিক না হলে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া সম্ভব হবে না বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। তবে সিনিয়র কয়েকজন নেতা বলছেন, সেপ্টেম্বরের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে তাহলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও মানুষের অধিকার আদায়ে সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিং শুরু হবে।
সূত্র মতে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে গেছে। বিগত কয়েকবছর ধরে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সক্রিয় থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের সেই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায় তার মুক্তিতে। সাংগঠনিক তৎপরতাও বন্ধ হয়ে যায় এই ভাইরাসের কারণে, স্থগিত করা হয় সংগঠনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, চলতি মাস পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে সংগঠনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পৃক্ত থেকে সীমিত পরিসরে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। অথচ চলতি বছরের শুরুতেও বিভিন্ন পাবলিক ইস্যুতে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে সোচ্চার ছিলেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, সাংগঠনিক কর্মকান্ড নিয়ে মাঠে নামতে আরো সময় লাগবে। কেননা মহামারী নিয়ন্ত্রণে এলে আগামী মাস থেকে সীমিত পরিসরে শুরু হতে পারে রাজনৈতিক কর্মকান্ড। এই সময় পর্যন্ত ভার্চুয়াল মাধ্যমেই সীমিত পরিসরে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চলবে। আপাতত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা চালাবেন তারা। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ঝুলে আছে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ সাংগঠনিক কর্মকান্ড।
জানা গেছে, ঈদুল আজহার সময় দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কয়েক নেতা। সেখানে সার্বিক বিষয়াদি ছাড়াও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে চেয়ারপার্সনের বৈঠকের পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে। যা মাঠের রাজনীতি শুরু হলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তাদের ধারণা। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে-ভার্চুয়াল মাধ্যমে সীমিত পরিসরে কর্মকান্ড চালালেও সাংগঠনিক কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে দলটিতে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে তৃণমূল পুনর্গঠন। অঙ্গসংগঠনগুলোর বেশির ভাগ কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও করোনার কারণে পুনর্গঠন আটকে আছে। যেসব আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলোর মেয়াদ শেষ হলেও কাউন্সিল করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনা সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং এখনো এই কাজ অব্যাহত রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে এর চেয়ে বড় কাজ আর কী হতে পারে? এটাও তো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কাজের মধ্যেই পড়ে। তবে মাঠের রাজনীতি বা সংগঠন গোছানোর যে কাজ, সেটা এখনই শুরু করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সেটি শুরু হবে। তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র উদ্ধার ও জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের মধ্যেই আছি।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে এর সমাপ্তিরেখা যেহেতু এখনো অনিশ্চিত, সে কারণে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই। বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবে ভিডিও বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে বড় অংশ সক্রিয় থাকবে। জনসমাবেশ স্বাস্থ্যকর না হওয়ায় ভার্চুয়ালি নেতারা দলীয় অবস্থান তুলে ধরবেন।
সিনিয়র রাজনীতিক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, করোনাভাইরাস কবে যাবে, তা তো বলা যাচ্ছে না। এখন সভা-সমাবেশ করা যাচ্ছে না, বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিকল্পনা করেই এগোতে হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ