বুধবার ০১ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

কেজির শিক্ষার্থীরা সরাসরি সরকারি স্কুলে স্থানান্তরিত হতে পারবে ॥ নির্দেশনা জারি

সরদার আবদুর রহমান : করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে দেশের কিন্ডার গার্টেন (কেজি) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সরাসরি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান ও পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকার প্রেক্ষিতে যাতে এসব শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে সেজন্য এই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে এই নির্দেশনার কারণে দেশের শত শত কিন্ডার গার্টেন তথা কেজি’র কর্তৃপক্ষ ও জনশক্তির মাথায় হাত পড়েছে। এর ফলে তারা শিক্ষার্থী হারানোর এবং বকেয়া বেতনাদি আদায় না হওয়ার আশংকা করছেন।
গত ৯ আগস্ট ২০২০ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: আকরাম-আল-হোসেন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, করোনা ভাইরাস-এর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সারাদেশের বিদ্যালয়সমূহ বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কারণে ছাত্র-ছাত্রীগণ বর্তমানে শহর ছেড়ে গ্রামে অবস্থান করছেন। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বেশ কিছু বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীগণ বিদ্যালয়বিহীন হয়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীগণ যাতে বিদ্যালয়বিহীন হয়ে ঝরে না পড়ে সেজন্য ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীগণকে বছরের যে কোন সময় তাদের বাসস্থান সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের আওতাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে তথ্যাদি যাচাই করে ভর্তির কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। তথ্যাদির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়, “যে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে সে যে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিল তার আইডি কার্ডবেতন বই/স্লিপ/ক্লাস ডায়েরি/বই পুস্তকাখাতাপত্র ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তা যাচাই করবেন। এক্ষেত্রে কোন ছাড়পত্র (টিসি) প্রয়োজন হবে না।”
এদিকে এই নির্দেশনা জারির ফলে সংশ্লিষ্ট কেজি’র কর্তৃপক্ষ তাদের চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আমরা স্তম্ভিত! আমরা লজ্জিত!’ শিরোনামে একজন উল্লেখ করেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জাতির জন্য অপমানকর, সরকারের উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধকারী ভয়াবহ দুঃসংবাদ এটি। যাতে শিক্ষার্থীরা পূর্বের স্কুলের বকেয়া পরিশোধ না করেই টিসি ছাড়া ভর্তি হতে পারে, তার ব্যবস্থা করে দেয়া হলো এই চিঠির মাধ্যমে। উদ্দেশ্য কী? আরো কিছু স্কুলকে আর্থিকভাবে দূর্বল করে দেয়া। এ যেন কাটা গায়ে নূনের ছিটা। এটা আবার সরকারকে বেকায়দা ফেলার জন্য সুযোগসন্ধানী অংশের ষড়যন্ত্র নয় তো? কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এমন নগ্ন হামলায় আমরা স্তম্ভিত! আমরা লজ্জিত! এতে আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হলো কি না, সেটাও চিন্তার বিষয়। মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব যদি বাস্তবে রূপ নেয়, জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার এই বিশাল দায় তখন কে নেবে? দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করার কারণ আছে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এই চিঠির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সঠিকভাবে অবহিত করা হয়নি। হলে তিনি কোনোমতেই এতে সম্মতি দিতেন না। অবিলম্বে এই চিঠি প্রত্যাহার চাওয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ