মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি হবে ভারতেই!

১০ আগস্ট, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস: এবার থেকে নিজেদের প্রতিরোধ-সুরক্ষা গড়তে দেশীয় পদ্ধতিতেই ভরসা রাখতে চলেছে ভারতের মোদি সরকার। রোববার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং টুইটারে জানিয়ে দেন, ১০১টি প্রতিরক্ষা সামগ্রীতে এবার থেকে আমদানি নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। মূলত ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কেন্দ্র।

এদের মধ্যে রয়েছে, আর্টিলারি বন্দুক, যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় হালকা হেলিকপ্টার, অ্যাসল্ট রাইফেলস করভেটস, রেডার, চাকাযুক্ত আর্মাড ফাইটিং ভেহিকেলস, পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় বিমান। এছাড়াও একাধিক অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রের আমদানির ওপরেও নিষেধজ্ঞা জারি হয়েছে। যে যে সরঞ্জামে নিষেধাজ্ঞা বসেছে সেই অস্ত্রশস্ত্র এবার তৈরি করবে হয় বেসরকারি সংস্থারা, নয়তো ডিফেনন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস। আসল বিষয়টি হলো, সরকার চাইছে বাইরের দেশের উপর নিজেদের নির্ভরযোগ্যতা কমাতে। দেশীয় পদ্ধতিতেই সেই সব সরঞ্জাম তৈরি করতে তাই এই নতুন চিন্তাভাবনা।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত ২৬০টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সামগ্রী আমদানি করা হয়েছে ভারতে। এবার সেই দিকেই রাশ টানতে চায় মোদি সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি কিছু বেসরকারি এবং ডিফেন্স কর্মকর্তা। নিজেদের ডিজাইন, টেকনোলজি ব্যবহার করে ভারত যে নিজেই নিজেই অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত করতে পারবে এবং সংস্থাগুলোর জন্যও এটা যে ‘দারুণ সুযোগ’ এমনটাই মনে করছেন তারা। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের আর্থিক কাঠামোকে চাঙ্গা করতেই দেশীয় সংস্থার উপর ভরসা রাখছে মন্ত্রণালয়। এর ফলে যেটা হবে, ভারত যদি উচ্চমানের অস্ত্র প্রস্তুত করতে সক্ষম হয় তাহলে সেই সব সরঞ্জাম বিদেশে রফতানি করে ভালো লাভের মুখও দেখতে পারবে। ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ধাপে ধাপে দেশীয় সংস্থাগুলোর সাথে চার লাখ কোটি টাকার চুক্তি বাস্তবায়িত হবে এমনটাও জানিয়েছেন রাজনাথ সিং। তবে এই সিদ্ধান্ত সরকার একা নেয়নি। ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীর সাথে আলাপ-আলোচনা করেই এই বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে রাজনাথ সিংয়ের মন্ত্রণালয়। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ