শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ ঝরলো ২৪২ জনের

গতকাল রোববার রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২০ প্রকাশ উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : এবারের ঈদযাত্রায় করোনা ভাইরাসের কারণে সীমিত আকারে পরিবহন চলাচলের মধ্যে দেশে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত ও ৩৩১ জন আহত হয়েছে। এছাড়া সড়ক, রেল ও নৌপথে এবারের ঈদে মোট ২৩৮ টি দুর্ঘটনায় ৩১৭ জন নিহত ও ৩৭০ জন আহত হয়েছে।
গতকাল রোববার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন ২০২০’ -এ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করে আসছে। ২৬ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৩ দিনে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত ও ৩৩১ জন আহত হয়েছেন। উল্লিখিত সময়ে রেলপথে চারটি দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। একই সময়ে নৌপথে ৩৩টি ছোট-বড় বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত এবং ১৭ জন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর গণপরিহন সীমিত আকারে চালু থাকায় ঈদযাত্রায় ব্যক্তিগত পরিবহন ও ছোট যানবাহনে যাতায়াত বেড়েছে। এ কারণেই ব্যক্তিগত পরিবহনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বেড়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ যাত্রীর যাতায়াত হলেও সেই তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’
এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয় ৪ আগস্ট, এই দিনে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ৮ আগস্ট, এই দিনে আটটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এই সময় একদিনে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৪ আগস্ট, এই দিনে ৩২ জন নিহত হন এবং একদিনে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন গত ৩১ জুলাই, এই দিনে ৫৫ জন আহত হন। উল্লিখিত সময়ে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ১০২ জন চালক, ৬৩ জন পথচারী, ৩৮ জন নারী, ৩০ জন শিশু, ১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ১১ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাতজন শিক্ষক, সাতজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, দুজন সাংবাদিক, এবং একজন প্রকৌশলীর পরিচয় মিলেছে। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন দুজন পুলিশ সদস্য, একজন সেনাবাহিনীর সদস্য, একজন বিমানবাহিনীর সদস্য, একজন সিআইডির সদস্য, ৮৫ জন চালক, ৫০ জন পথচারী, ৩২ জন নারী, ২৪ জন শিশু, আটজন শিক্ষার্থী, ছয়জন শিক্ষক, নয়জন পরিবহন শ্রমিক, একজন প্রকৌশলী, চারজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩২.৩৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৯.২৫ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৩.৪৩ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৯৮ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৯৯ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘটিত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ