শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দুই কোটি

স্টাফ রিপোর্টার: চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব চলছেই। প্রতিনিয়ত ভাইরাসটি কেড়ে নিচ্ছে হাজারো প্রাণ। সংক্রমণের তালিকাতেও যোগ হচ্ছে লাখ লাখ মানুষের নাম। তবে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে সুস্থতার সংখ্যাও।
করোনা নিয়ে আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল রোববার পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন মোট এক কোটি ২৭ লাখ ২১ হাজার ১৮৬ জন। এছাড়া মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৪০৮ জনে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ২৯ হাজার ৫৬৮ জন।
করোনায় সংক্রমণের দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বিপর্যস্ত এই দেশটিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭০ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৬ লাখ ৩৮ হাজার ৪৭০ জন।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ ১৩ হাজার ৩৬৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫৪৩ জনের। আর এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২০ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৩ জন।
অন্যদিকে রাশিয়াকে টপকে তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসা ভারতে মোট ২১ লাখ ৫২ হাজার ২০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৪৩ হাজার ৪৫৩ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৪ জন।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৭ জন। আর করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৮৫৪ জনের।
পঞ্চম স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৮ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১০ হাজার ২১০ জন।
প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ বাড়ছে বাংলাদেশেও। ১৫ নম্বর অবস্থানে থাকা বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫৫ হাজার ১১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩৬৫ জনের। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৬০৪ জন।
এদিকে করোনায় বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ের শেষ দুই সপ্তাহে প্রায় এক লাখ শিশু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সম্প্রতি আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গত ১৬ জুলাই থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ৯৭ হাজারেরও বেশি শিশু করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত শনাক্ত প্রায় ৫০ লাখ করোনা রোগীর মধ্যে ৩ লাখ ৩৮ হাজার শিশু রয়েছে। শুধু জুলাই মাসেই দেশটিতে করোনায় ২৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে মহামারির মধ্যে শিশুদের স্বশরীরে স্কুলে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
অথচ এই অবস্থায়ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডে ব্লাসিও ঘোষণা দিয়েছেন, শিগগিরই শিশুদের স্বশরীরে স্কুলে ফিরিয়ে আনা হবে এবং এ প্রক্রিয়া ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করতে কর্মকর্তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, স্কুল কমিউনিটি কীসে সুরক্ষিত থাকবে সে বিষয়ে তারা (কর্মকর্তারা) সারাবিশ্বের নমুনা পর্যবেক্ষণ করেছেন। সবার আগে স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষাদানে তারা বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির ড. টিনা হারটার্ট আশা করেন, সংক্রমণ বৃদ্ধিতে শিশুদের ভূমিকা কী অধিক হারে করোনা টেস্ট তা নির্ধারণে সহায়তা করবে। বাড়িতে করোনা টেস্ট বিষয়ক সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. টিনা।
তিনি বলেন, প্রায় দুই হাজার পরিবারের কাছে এই কিট পাঠানো হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করা এবং সেগুলো একটি কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শেখানো হয়েছে তাদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ