রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ডুমুরিয়ায় অসময়ে টমেটো চাষ লাল-সবুজে ভরে গেছে ক্ষেত

খুলনা অফিস : খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ হতে দক্ষিণ দিকে ডুমুরিয়া মহিলা কলেজ রোড দিয়ে থানার পাশ দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার গেলে আইতলা গ্রাম। এ গ্রামে রয়েছে শেখ রাসেল স্টেডিয়াম। তার পাশে শেখ আজিজের টমেটোক্ষেত। যেখানে গেলে চোখে পড়ে বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে তৈরি দুই চালা ঘরের ভেতর লাল-সবুজ রঙের টমেটো ঝুলছে থোকায় থোকায়।

অন্যান্য ফসল চাষাবাদে লাভের মুখ না দেখলেও এবার অসময়ে টমেটো চাষ করে দামও পাচ্ছেন ভালো। এ এলাকায় টমেটো চাষে আজিজ শেখের সুনাম বাড়ছে দিনকে দিন । বাড়ছে চাষের পরিধি। অন্য কৃষকরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন টমেটো চাষে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশি উচ্চফলনশীল বারি-৪ এবং উচ্চফলনশীল বারি-৮ জাতের বীজ সংগ্রহ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া চারা উৎপাদন ও চাষের কলাকৌশল সম্পর্কেও তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বৃষ্টি থেকে চারাকে রক্ষা করতে বীজতলার ওপর পলিথিন দিয়ে ছাউনি দিয়ে ঢেকে দেন। মাত্র এক মাসে চারাগুলো জমিতে লাগানোর উপযোগী হয়ে ওঠে। জুনের শেষ দিকে টমেটো গাছে ফুল ধরে। জুলাইয়ের শেষ দিকে টমেটো পাকতে শুরু করে। স্থানীয় বাজারে এখন প্রতি কেজি টমেটোর দাম ১৫০ টাকা। আজিজ শেখের সাফল্য দেখে আশপাশের অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। আজিজ শেখ জানান, অন্য ফসলের কাংখিত মূল্য না পেয়ে জীবিকা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তখন কৃষি অফিসের দারস্থ হই। প্রশিক্ষণ প্রদানসহ উচ্চমূল্যের ফসল চাষের পরামর্শ দেন উপজেলা কৃষি অফিসার। এছাড়া উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নিয়মিত গিয়ে খোঁজ খবর দিয়ে সহযোগিতা করতেন। তারপরই সফলতার শুরু। জৈব সার ব্যবহার করে টমেটো চাষাবাদ করি। আগে ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় টমেটোর প্রাপ্তিকাল ছিল শুধু শীতকালের কয়েকটি মাস। ফলে গ্রীষ্মকালে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে থেকে আমদানীর মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা হতো। তারপরও অসময়ে ফলন ও উচ্চমূল্য প্রাপ্তির কারণে এ এলাকায় অন্য কৃষকদের মাঝে গীষ্মকালীন টমেটো চাষ ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনেকেইতো আমার ক্ষেত দেখতে আসে। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্মতা মো. মোছাদ্দেক হোসেন জানান, এটি একটি উচ্চ মূল্যের ফসল। এক বিঘা জমিতে ৪০/৫০ হাজার টাকা খরচ করে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার সামার টমেটো পাওয়া যায়। কৃষক আজিজ মূলত বারি হাইব্রিড ৪ এবং বারি হাইব্রিড ৮ জাতের সামার টমেটো চাষ করেছেন। বারি হাইব্রিড ৪ একটি গাছে ৯৬ টি এবং বারি হাইব্রিড ৮ একটি গাছে ৪৮ টি পর্যন্ত টমেটো পাওয়া যায়। একটি গাছে ৪-৫ কেজি টমেটো পাওয়া যায়। বীজ রোপনের পূর্বে বীজতলায় চারা তৈরি করে নেওয়া হয়। চারার বয়স ২৫ দিন হলে রোপন করা হয়, রোপনের ১৬ দিন পরে ফুল আসে এবং ৪০ দিন পর হতে টমেটো পাওয়া যায়। বৃষ্টির পানি যাতে ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য বাঁশের চটা ও পলিথিন দিয়ে সেড তৈরি করা হয়। এটিতে অতিরিক্ত পরিচর্যা হিসেবে একদিন পরপর পিজিআর-৩ হরমন স্প্রে করা হয়। 

বর্তমান ১৫০ টাকা কেজি দরে টমেটো বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে ১ মন টমেটোর দাম ৬ হাজার টাকা। সাধারণত রোপনের ৫০-৬০ দিন পর হতে প্রতি সপ্তাহে ৩-৪ মন টমেটো পাওয়া যায়। ডুমুরিয়ার মাটি এবং আবহাওয়া এটি চাষের জন্য উপযোগী। এখানে সাধারণত ঘেরের পাড়ে দুই বা তিন সারিতে এই জাতীয় টমেটোর আবাদ হয়ে আসছিল। এ বছর প্রথমবারের মত বাণিজ্যিকভাবে সেড দিয়ে কৃষককে বীজ সহায়তা প্রদান করে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে এটি চাষ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ