মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

৪০০ তালেবান বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার অনুমোদন আফগান পার্লামেন্টের

৯ আগস্ট, রয়টার্স/আল জাজিরা: ৪০০ তালেবান বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে আফগান পার্লামেন্ট লয়া জিরগা। গতকাল রোববার এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৯ বছরের যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নিলো আফগান সরকার। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম। আফগান পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনায় যে কোন বাধা অপসারণ, শান্তি প্রক্রিয়া শুরু এবং রক্তপাতের অবসান ঘটাতে লয়া জিরগা ৪০০ তালেবান বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। লয়া জিরগার এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। এতে দেশটির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রায় তিন হাজার ২০০ নেতৃবৃন্দ ও রাজনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া ঠিক হবে কিনা সেটি নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। তালেবানের পক্ষ থেকে শান্তি আলোচনার শর্ত হিসেবে তাদের বন্দিদের মুক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। রয়টার্স জানিয়েছে, এ ৪০০ জনের মুক্তির মধ্য দিয়ে তালেবানের দাবি অনুযায়ী তাদের পাঁচ হাজার বন্দির সবাইকে মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত মাসে আফগানিস্তানের সরকারি তালেবানবিরোধী হামলায় শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির নিন্দা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পরপরই দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, তারা এ হামলায় অংশ নেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তালেবান বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার সরকারি এ ঘোষণা অর্থপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক মাস আগে তালেবানদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর যে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, নিরাপত্তা বাহিনীর ওই হামলার ফলে সেটি বড় ধরনের একটি ধাক্কা খেয়েছে। এখন বন্দি মুক্তির মাধ্যমে মূলত শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করা তথা মার্কিন চাপ এড়ানোর কৌশল নিয়েছে কাবুল। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তালেবান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রায় পাঁচ হাজার তালেবান বন্দিকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেয় ওয়াশিংটন। বিনিময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক হাজার সদস্যকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেয় তালেবান। তবে শুরু থেকেই তালেবান বন্দিদের মুক্তি দিতে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল কাবুল। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রায় সবাইকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ