মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ঢাকা উত্তরের ডেঙ্গুরোধে নিধনে চিরুনি অভিযান শুরু ॥ লার্ভা মিলল ৮৭ স্থাপনায়

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানোর জন্য সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের গতকাল শনিবার উত্তর বাড্ডার সাতারকুল এলাকায় দেখা যায় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : তৃতীয় পর্যায়ের ১০ দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রথম দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫৪ ওয়ার্ডে  পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) অভিযানে ১২ হাজার ৭৩৬টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে ৮৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৭ হাজার ৩০১টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এ সময় ২০টি মামলায় এক লাখ ২৮ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য বাড়ি ও স্থাপনার মালিককে সতর্ক করা হয়েছে।
ডিএনসিসি সুত্রে জানা গেছে, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বছরব্যাপী মশকনিধন কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ডিএনসিসি। এরই অংশ হিসেবে  কয়েকটি পর্যায়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের (চিরুনি অভিযান) সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত ৬ থেকে ১৫ জুন প্রথম ও ৪ থেকে ১৪ জুলাই দ্বিতীয় পর্যায়ের চিরুনি অভিযান শেষে গতকাল থেকে তৃতীয় পর্যায়ের ১০ দিনব্যপী চিরুনি অভিযান শুরু হলো। চিরুনি অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত আরও জোরদার করা  হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে ভবন বা স্থাপনার মালিক পাওয়া যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনে নিয়মিত মামলা করা হবে।
গতকাল শনিবার উত্তরা অঞ্চল-১ এর অধীনে মোট ৭৯৮টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ৬টি মামলায় মোট ১৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ৬৮৭টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।
মিরপুর অঞ্চল-২ এর অধীনে মোট ২ হাজার ৪১৭টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায এবং ২৩৫ টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাস্ক ব্যবহার না করার জন্য ৫টি মামলায় মোট ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মহাখালী, অঞ্চল-৩ এর অধীনে মোট এক হাজার ৬১৪টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩৮টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৯৭৫টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এ সময় ৪টি মামলায় মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
মিরপুর ১০, অঞ্চল-৪ এর অধীনে মোট এক হাজার ৫২৬টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৮টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ২টি মামলায় মোট এক হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া ৬২৫টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।
কারওয়ান বাজার, অঞ্চল-৫ এর অধীনে মোট ২ হাজার ১৬১টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া এক হাজার ৬৪৪টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।
হরিরামপুর, অঞ্চল-৬ এর অধীনে মোট এক হাজার ৩৯০ টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১০টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া এক হাজার ১৩৮টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।
দক্ষিণখান অঞ্চল-৭ এর অধীনে মোট ৮৮৬টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২ টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৬৯৩টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।
উত্তরখান অঞ্চল-৮ এর অধীনে মোট ৭৪৩টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২টি স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৪৬৮টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।
ভাটারা অঞ্চল-৯ এর অধীনে মোট ৪৯১টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এবং ২৮৯টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।
সাঁতারকুল অঞ্চল-১০ এর অধীনে মোট ৭১০টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে কোনো এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়নি। তবে এ সময় ৫০৭টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। উল্লিখিত সকল সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজন স্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক কীটনাশক ছিটানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে পরবর্তীতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তৃতীয় ধাপে চিরুনি অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে এবারও প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি সেক্টরে অর্থাৎ ১০টি সাবসেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। দীর্ঘমেয়াদী আধুনিক মশক নিধন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিগতবারের ন্যায় এবারও এডিসের লার্ভা প্রাপ্তির স্থানসমূহ এবং প্রজনন উপযোগী পরিবেশসমূহের তথ্য অ্যাপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযানে মোট ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৬টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২ হাজার ৬৮৬টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং সর্বমোট ৪৮ লাখ ১২ হাজার ৫১০ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে ডিএনসিসির চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সুত্রে জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ