ঢাকা, বুধবার 30 September 2020, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ১২ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

বিস্ফোরণ: বৈরুতে বিক্ষোভ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ঝুঁকি জেনেও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মত মারাত্মক দাহ্য পদার্থ কেন ‍বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছিল তার জবাব চেয়ে লেবাননের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ।

দেশটির পার্লামেন্টের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশ তাদের থামাতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বলে জানায় বিবিসি।

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মারাত্মক দাহ্য, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বিস্ফোরণ। সব জেনেও বৈরুত বন্দরের কাছের একটি গুদামে ২০১৩ সাল থেকে দুই হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট অনিরাপদ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল।

যা থেকেই গত মঙ্গলবার বিকালে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের ধাক্কায় পুরো বৈরুত শহর ভূমিকম্পের মত কেঁপে ওঠে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ।

রাজধানী বৈরুতের অর্ধেকই ধুলিস্যাৎ হয়েছে গেছে। এখনো নিখোঁজ বহু মানুষ। তাই হতাহতের সংখ্যাও বাড়বে। তিন লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ, যাদের মধ্যে বন্দরের মহাব্যবস্থাপকও রয়েছেন।বিস্ফোরণের পর বুধবার এমপি মারওয়ান হামাদহ পদত্যাগ করেন। আরো দুই শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাও পদত্যাগ করেছেন।

এ ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন জর্ডানে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত ট্রেসি শামৌন। তিনি নিজেও বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন।

বৈরুতে বিস্ফোরণের পর আন্তর্জাতিক নেতাদের মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো প্রথম লেবানন সফর করেছেন। বৃহস্পতিবার বৈরুতের অবস্থা পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, লেবাননে দেশ পরিচালনায় ‘বড় ধরনের’ পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বানও জানান তিনি।

ফ্রান্সের একটি উদ্ধারকারী দল বৈরুতে উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছে। ধ্বংসস্তুপের নিচে এখনো জীবিত মানুষ আটকা পড়ে আছে বলে ধারণা করছেন তারা।

বিস্ফোরণে এত মানুষ আহত হয়েছেন যে তাদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গণস্বাস্থ্য মন্ত্রী হামাদ হাসান আহতদের চিকিৎসায় সাহায্য করার আবেদন জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ