শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জুলাইয়ে ২৯৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ শিশুসহ ৩৫৬ জন নিহত

 

স্টাফ রিপোর্টার: করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে গত জুলাই মাসে দেশে ২৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩৫৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৪১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ছিলেন ৬৪ জন এবং শিশু ছিল ৩৫ জন। একই সময়ে ১৬টি নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ জন এবং নিখোঁজ হয়েছেন ২১ জন। আর রেলপথে চারটি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে চারজনের। বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, গত মাসে সড়কে এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ১০৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯৮ জন, যা মোট মৃত্যুর ২৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত হয়েছেন ৮৪ জন, যা মোট মৃত্যুর ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, অর্থাৎ ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ট্রাকযাত্রী ১৮, বাসযাত্রী ১৪, পিকআপযাত্রী ৯, কাভার্ডভ্যানযাত্রী ৪, মাইক্রোবাসযাত্রী ৫, প্রাইভেটকারযাত্রী ২৩, অ্যাম্বুলেন্সযাত্রী ৩, ট্রলিযাত্রী ৬, লরিযাত্রী ২, সিএনজিচালিত অটোরিকশাযাত্রী ২২, ইজিবাইক-অটোরিকশাযাত্রী ২০, নসিমন-করিমনযাত্রী ১৩, ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্রাযাত্রী ৯, রিকশা ও রিকশাভ্যানযাত্রী ১১, লেগুনাযাত্রী ৭, টমটমযাত্রী ১, পাওয়ার-টিলারের ২ এবং বাইসাইকেল আরোহী পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় নিহতদের মধ্যে শিক্ষক সাতজন, চিকিৎসক (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) একজন, সেনা সদস্য একজন, পুলিশ সদস্য চারজন, রেলওয়ে পুলিশ একজন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট একজন, স্বাস্থ্যকর্মী দু’জন, সাংবাদিক তিনজন, এনজিওকর্মী সাতজন, ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার একজন, রাজনৈতিক নেতা ছয়জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষী একজন, সরকারি চাকরিজীবী আটজন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২১ জন, পোশাক শ্রমিক ১৩ জন, পাটকল শ্রমিক একজন, চা শ্রমিক একজন, প্রবাসী শ্রমিক দু’জন এবং শিক্ষার্থী ৩৯ জন ছিলেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১১৬টি অর্থাৎ ৩৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ৯৮টি বা ৩৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ৪৮টি বা ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে এবং ৩১টি বা ১০ দশমিক ৫৮ শতাংশ শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনাগুলোর ৭২টি (২৪.৫৭ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৭৮টি (২৬.৬২ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৮৬টি (২৯.৩৫ শতাংশ) পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা, ৪৩টি (১৬.৬৭ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ১৪টি (৪.৭৭ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৪০১টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ট্রাক ৭৮টি এবং বাস ৫৩টি। দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে ভোরে ৯ দশমিক ২১ শতাংশ, সকালে ৩০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, দুপুরে ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ, বিকেলে ১৫ দশমিক ৬৯ শতাং, সন্ধ্যায় ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং রাতে ১৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঢাকা বিভাগে (২৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ) এবং সবচেয়ে বেশি প্রাণহানিও এ বিভাগে (৭৬ জন) বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; ২. বেপরোয়া গতি; ৩. চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; ৪. বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; ৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; ৬. তরুণ ও যুবাদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; ৭. জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; ৮. দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; ৯. বি আরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং ১০. গণপরিবহণ খাতে চাঁদাবাজি বলে চিহ্নিত করা হয় প্রতিবেদনে। দুর্ঘটনা হ্রাসে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সুপারিশ তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়াতে হবে; ২. চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ