ঢাকা, বুধবার 30 September 2020, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ১২ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

লেবাননে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৭৮, আজ রাষ্ট্রীয় শোক

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিশাল এক বিস্ফোরণে এই প্রতিবেদন আপডেট করার সময় পর্যন্ত অন্তত ৭৮ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছেন আরও চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ও গাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে বৈরুতের বন্দর এলাকার ওই বিস্ফোরণে পুরো বৈরুত শহর ভূমিকম্পের মত কেঁপে ওঠে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে।

লেবাননের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান বলেছেন অত্যন্ত বিস্ফোরক রাসয়নিক পদার্থের গুদামে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন এই বিস্ফোরণ দুর্ঘটনা। পরিকল্পিতভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি। তারা বলছেন গুদামে ছয় বছর ধরে মজুত রাখা অত্যন্ত বিপদজনক বিস্ফোরক থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর বিবিসি ও আল জাজিরা’র।

এদিকে, এ বিস্ফোরণের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা নাকচ করেছে তেল আবিব। রয়টার্স।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বৈরুতের বন্দর এলাকা থেকে বড়ু গম্বুজ আকারে ধোঁয়া উড়ছে, এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিকট বিস্ফোরণে গাড়ি, ভবন উড়ে যেতে দেখা যায়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে বাড়ি-ঘর এমন কেঁপে ওঠেছিল যে স্থানীয়রা ভাবছিলেন ভূমিকম্প হচ্ছে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে মানুষের চিৎকার ও ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। বাড়িঘরের জানালার কাচ ও বেলকনি ভেঙেও অনেকে আহত হন।

হাসপাতাল সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি নিহতের সংখ্যা ৭৩ বলে জানিয়েছে।

লেবানন রেডক্রস জানিয়েছে, আহত বহু মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে চিকিৎসার জন্য।

আল জাজিরার সাংবাদিক তিমোর আজহারি বলেন, “বৈরুত হাসপাতালের করিডোরও ভরে গেছে আহত ও রক্তাক্ত মানুষে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামাদ হাসান বলেন, বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে অনেক মানুষকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন।

তিনি এই বিস্ফোরণকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইরান, ইসরায়েল এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে লেবাননকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও বলেছে, তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

যে স্থানটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখানে বন্দরের গুদাম রয়েছে।

লেবননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) বন্দরের গুদামে প্রথম আগুন লাগার কথা জানায়। এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, গুদামে রাসায়নিকের মজুদও রয়েছে।

লেবাননের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আল জাজিরাকে বলেছেন, বন্দরে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ করা ছিল। তা থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

লেবাননের সম্প্রচার মাধ্যম ‘মায়াদিন’ দেশটির কাস্টমস পরিচালকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলছে, কয়েক টন নাইট্রেট বিস্ফোরিত হয়েছে।

আগুন ও বিস্ফোরণটি দুর্ঘটনাবশত ঘটে থাকতে পারে, বলা হচ্ছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে।

সেখানে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুদ কেন ছিল, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে তার জবাবদিহি চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব এই ঘটনাকে বিপর্যয় বলে বর্ণনা করেছেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন।

প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন এক টু্‌ইট বার্তায় বলেছেন কোন গুদামে ২,৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মত বিস্ফোরক অনিরাপদভাবে মজুত রাখার বিষয়টি "অগ্রহণযোগ্য"।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে ধ্বংসস্তুপের নিচে মানুষকে আটকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন বিস্ফোরণের আওয়াজ ছিল তীব্র ও কান ফাটানো। ভিডিও ফুটেজে অনেক গাড়ি এবং ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দেখা গেছে।

বন্দর এলাকা থেকে পাওয়া ভিডিওতে প্রথম বিস্ফোরণ স্থল থেকে ধোঁয়ার কুন্ডলি উঠতে দেখা যায়। টুইটারে অনেকে মোবাইল ফোনে তোলা প্রচণ্ড বিস্ফোরণের ভিডিও শেয়ার করেন।

টুইটারে পোস্ট করা এই ভিডিওর সাথে বলা হয় তারা বিস্ফোরণ স্থল থেকে ১০ কিমি দূরে থাকেন এবং বিস্ফোরণে তাদের ভবনের কাঁচ ভেঙে গেছে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ