রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনায় ঈদ-উল-আযহার প্রধান জামাত সকাল আটটায়

খুলনা অফিস: খুলনায় ঈদ-উল-আযহার প্রধান ও প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল আটটায় টাউন জামে মসজিদে। এবারে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে উন্মুক্ত স্থানে বা মাঠে কোন ঈদের জামাত হবে না। প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহম্মদ সালেহ। একই স্থানে দ্বিতীয় ও শেষ জামাত সকাল নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া কোর্ট জামে মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসা জামে মসজিদ, নিউমার্কেট বায়তুন নূর জামে মসজিদ, রূপসা বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা (২য় ফেজ) বায়তুল্লাহ জামে মসজিদসহ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন মসজিদে নিজেদের সময় অনুযায়ী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জেলার সকল মসজিদে ঈদ-উল-আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে।

সরকারি নির্দেশনা মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ঈদের জামাতের কাতারে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর এক কাতার করে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। মসজিদের অযুর স্থানে সাবান ও স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মুসুল্লিদের বাসা থেকে অযু করে এবং মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। অযু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো যাবে না। মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করতে হবে এবং মুসুল্লিগণ বাসা থেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। মসজিদের টুপি এবং জায়নামাজ ব্যবহার করা যাবে না। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোন অসুস্থ ব্যক্তি, অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পেতে নামাজ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হবে।

ঈদে আইনশৃংঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহানগর ও মহানগরের বাইরের বিভিন্ন স্পটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতা বন্ধে বিভিন্ন স্থানে সাদা পোশাকধারী পুলিশ মোতায়ন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। ঈদ-উল-আযহার সময় আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল তৈরি, উচ্চস্বরে মাইক, ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়াভাবে মটর সাইকেল চালানো যাবে না। উপজেলাসমূহেও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ কর্মসূচি অনুযায়ী ঈদ-উল-আযহা উদযাপন করা হবে।

এদিকে ঈদ উল আযহা উপলক্ষে খুলনা মহানগরীজুড়ে তিন ধাপে নিরাপত্তা ছক তৈরি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গরুর হাট, ঈদের জামাত ও ঈদের পর ফাঁকা খুলনার জনগণের জানমাল রক্ষায় নেওয়া হয়েছে এ পদক্ষেপ। পবিত্র ঈদ উল আযহায় আইএসের বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে কড়া সতর্কতা হিসেবে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে গোটা শহর।

করোনার এই দুর্যোগ মুহূর্তে ঈদ উল আযহাকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘœ করতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে এবারের ঈদের নামাজ ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে মসজিদে গিয়ে আদায় করতে হবে।

ঈদ ও এর পরে ছুটির দিনগুলোতে পুলিশ নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুলিশের ঈদের ছুটিও সীমিত করা হয়েছে।

কেএমপি সূত্র জানায়, নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঈদের দিন মহানগরীর ৮ থানা এলাকায় তিন সহ¯্রাধিক সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। এরমধ্যে পোশাকধারী পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা (ডিবি) ও বিশেষ শাখা (সিটিএসবি) পুলিশের সমন্বয়ে টিম মাঠে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে। মাঠে থাকবে র‌্যাবের টইল দলও।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ করে টাউন জামে মসজিদ ও বাইতুন নূর কমপ্লেক্স জামে মসজিদসহ বড় বড় মসজিদগুলো ঘিরে থাকবে পুলিশের ফোর্স। ঈদের পরে দিনে ও রাতে পুলিশের টহল টিম মহানগরী এলাকায় নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

এ বিষয়ে খুলনা  মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) কানাই লাল সরকার বলেন, ঈদ উৎসবকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঈদের ছুটিতে মহানগরী অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। এসময় বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় চুরির পরিমাণ বেড়ে যায়। এছাড়া রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় ছিনতাইকারীরা এ সময় তৎপর হয়ে ওঠে। এ জন্য ঈদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত মার্কেট কেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদের দিন ঈদগাহ কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। ঈদের পরে বাসাবাড়ি, শপিং মল ও জুয়েলারি দোকানগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যেই র‌্যাব-পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিট, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ঈদের আগে, ঈদ ও ঈদ পরবর্তী সময়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করবে।

তিনি জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপনের জন্য পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োজিত করা হয়েছে। মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং সন্দেহজনক মনে হলে চেকপোস্টে তল্লাশি চলবে। ঈদের জামাতে নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের জায়নামাজ ও টুপি ছাড়া কোনো প্রকারের ব্যাগ বহন করতে নিষেধ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ