রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সিলেটে পশুর হাটে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

 

সিলেট ব্যুরো: সিলেটে দুটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ মানুষের মুখেই মাস্ক নেই। কেউই সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। ক্রেতাদের সঙ্গে বেশ কিছুসংখ্যক শিশুরও দেখা মেলে। কাজিরবাজারের স্থায়ী পশুর হাট এবং দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকস্থ অস্থায়ী পশুর হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। 

করোনা পরিস্থিতির জন্য এবারে সিলেট নগরীর ভেতরে একটি এবং শহরতলিতে বসেছে আরেকটি পশুর হাট। এর মাঝে একটি স্থায়ী এবং অপরটি অস্থায়ী। করোনার সংক্রমণ রোধেই এমনটি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাণঘাতি ভাইরাস ঠেকাতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য বেঁধে দিয়েছেন জরুরি নিয়ম। কিন্তু সিলেটের দু’টি হাটের কোনোটিতেই মানা হচ্ছে না নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি। এমনকি মুখে মাস্কবিহীন শিশুদের নিয়ে অনিরাপদ দূরত্বে পশুর হাটে লোকজনকে ঘুরোঘুরি করতে দেখা গেছে। এতে সিলেটে করোনার সংক্রমণ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার কাজিরবাজার হাটে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা অথবা বিক্রেতা কোনো সামাজিক দূরত্ব না মেনেই গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে দর-দাম করছেন। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতারই মুখে মাস্ক নেই। বেশ কিছু ক্রেতার সঙ্গে এসেছে তাদের শিশুসন্তানেরাও। এসব শিশুর মুখেও মাস্ক নেই। কয়েকজন ক্রেতাকে হাত ধরাধরি করেও ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। 

নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার আবদুল মতিন নামের এক চাকরিজীবি তার দুটি অল্প বয়সী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে হাটে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘গরু কেনার জন্য সকাল থেকে ঘুরছি। একটার দরদাম করছি। বিক্রেতা ৭০ হাজার টাকা হাকিয়েছেন। দামটা একটু বেশিই মনে হচ্ছে।’ ছেলেদের কেন নিয়ে এসেছেন, করোনাকে ভয় পান না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গরু দেখার জন্য তাদের সঙ্গে এনেছি। তারাও একটু খুশি হবে। আর সিলেটে এখন করোনার তেজ কমে আসছে।’ সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে বিক্রির জন্য গরু নিয়ে আসা নুর মিয়ার নামের একজন জানান, হাটে বিক্রির জন্য ১০টি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে দুটি গরু বিক্রি হয়েছে। বেশির ভাগ ক্রেতাই দর কষাকষি করে চলে যান। করোনার কারণে এবার হাটে ক্রেতার সংখ্যাও কম। তবে তিনি মনে করেন, ঈদের আগের দুইদিন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

হাটের পরিস্থিতি ভয়াবহ উল্লেখ করে মো. ওয়াদুদ নামের একজন বলেন, ‘কোরবানির গরু কিনতে ওই হাটে এসেলাম। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে বুকে ভয় ঢুকে গেছে। দূরত্বের বালাই নাই। ক্রেতা-বিক্রেতারা গা–ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়াচ্ছে। অনেকের মুখেই মাস্ক নাই। কেউ কেউ মাস্ক পরলেও ঝুলিয়ে রাখছে। জটলা করে মানুষ গরুর দরদাম করছে।’ 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ