বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

মানবপাচার বন্ধ করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

স্টাফ রিপোর্টার: গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল আন্তর্জাতিক মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস। চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার সূচকে (ট্রাফিকিং ইন পারসন-২০২০) একধাপ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার সূচকে টায়ার-২-এ অবস্থান করে বাংলাদেশ। এরপর তিন বছর টায়ার-২ নজরদারির তালিকায় অবস্থান শেষে চতুর্থ বছরে আবারও টায়ার-২ স্তরে ফিরে যায় বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র এ বছর ১৪টি সুপারিশ করেছে বাংলাদেশকে। আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে চায় সরকার। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতির মূল চ্যালেঞ্জ হলো, শ্রম অভিবাসনের নামে মানবপাচার বন্ধ করা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে যে সুপারিশগুলোর কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে প্রথমেই আছে, শ্রম অভিবাসনের নামে পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়টি। এছাড়া আরও আছে– নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সির দ্বারা কর্মীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ বন্ধ করে সরাসরি নিয়োগকর্তাকে টাকা দিয়ে নিয়োগের ব্যবস্থা; রোহিঙ্গা পাচারের বিষয়ে তদন্ত বাড়ানো; পাচারের শিকার ব্যক্তির যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিতে গাইডলাইন এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসেডিওর (এসওপি) তৈরি; রিক্রুটিং এজেন্টদের তদারকি ও দালালদের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে; প্রাক বহির্গমন প্রশিক্ষণের মান আরও ভালো করতে হবে; রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যাতে অভিযোগ দায়ের করতে পারে সেজন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে; বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয়ে উন্নয়ন করতে হবে এবং মানবপাচার প্রতিরোধে জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা ২০১৮-২০২০ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। মানবপাচার প্রতিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রম অভিবাসনের নামে মানবপাচার যেমন চ্যালেঞ্জ তেমনি ক্রসবর্ডার ট্রাফিকিং অর্থাৎ নিজ সীমান্ত দিয়ে পাচারের ঘটনাও কিন্তু কম না। দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানবপাচার মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে নয়টি জেলায় এই মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই নয় জেলায় ২০০ মামলার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখেছে জাস্টিজ অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ। সেখানে তারা দেখতে পায়, ৮০ শতাংশ মামলাই ক্রসবর্ডার ট্রাফিকিং। আর বাকি ১২ শতাংশ অভ্যন্তরীণ পাচার এবং ৮ শতাংশ বহির্বিশ্বে পাচার।  জাস্টিজ অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তরিকুল ইসলাম মনে করেন, গত বছরের অর্জন ছিল আশানুরূপ। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো আবারও নতুন করে চিন্তা করতে হবে। এর জন্য আমাদের প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং সমন্বয় তৈরি করা। এছাড়া বহির্বিশ্বে অপরাধের নেটওয়ার্ক ভাঙতে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন আছে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান মনে করেন, শ্রম অভিবাসনের নামে মানবপাচার আমাদের জন্য ভবিষ্যতে বড় হুমিক। তিনি বলেন, টিআইপি রিপোর্টে যে সুপারিশগুলো আছে সেগুলোর সঙ্গে আমাদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনার যে লক্ষ্য আর এসডিজি যে লক্ষ্য আছে সেগুলো কিন্তু প্রায় কাছাকাছি। এক্ষেত্রে আমাদের সমন্বয়গুলো জোরদার করতে হবে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ