সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশে সাড়ে ৩ কোটি শিশুর রক্তে ক্ষতিকর সীসা!

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে সাড়ে ৩ কোটি শিশুর রক্তে ক্ষতিকর সীসার বিপজ্জনক মাত্রার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।  সীসা বিষক্রিয়ায় শিশু মৃত্যুর দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

পিওর আর্থের সহযোগিতায় সংস্থাটির করা নতুন এই বৈশ্বিক গবেষণায় জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে সাড়ে তিন কোটি শিশুর শরীরে  ক্ষতিকর মাত্রায় সীসা রয়েছে।

ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী প্রতি তিন শিশুর একজনের রক্তে সীসার মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে (ক্রম/ফখ) ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি! এই হিসাবে প্রায় ৮০ কোটি শিশুর রক্তে এই পরিমাণ সীসা মিলেছে।

বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে চতুর্থ অবস্থানে নিয়ে গেছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি বলেছেন, ‘সীসার বিষক্রিয়া শিশুদের জীবনভর শিক্ষাগ্রহণে অসামর্থ্য করে তোলাসহ তাদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের ওপর মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে এবং এর কারণে বড় হওয়ার পর তাদের আয়ের সক্ষমতাও প্রভাবিত হয়। ‘

‘বিপজ্জনক ধাতব বর্জ্য ও সীসার দূষণ এবং এর কারণে শিশুদের ক্ষতিজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করবে ইউনিসেফ। ‘

এই প্রতিবেদনটি শিশুদের সীসার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া বিষয়ক হেলথ মেট্রিক্স ইভাল্যুয়েশনের করা একটি বিশ্লেষণ এবং এটি এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পারস্পেকটিভসে প্রকাশের জন্য অনুমোদিত একটি গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করা হয়।

বাংলাদেশে উন্মুক্ত বাতাসে এবং আবাসস্থলের কাছাকাছি এলাকায় ব্যবহৃত সীসা-এসিড ব্যাটারির অবৈধ পুনর্ব্যবহারকে সীসার সংস্পর্শে আসার একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্যই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

ইনস্টিটিউট অব হেলথ মেট্রিক্স ইভাল্যুয়েশনের তথ্য অনুসারে, সীসার বিষক্রিয়াজনিত কারণে বিশ্বে যেসব দেশে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, সেই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।

এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাংলাদেশের মশলায় উচ্চ মাত্রায় সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হলুদের মান নির্দেশক হিসেবে রঙ ও ওজন বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত লেড ক্রোমেট শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সমানভাবে রক্তে সীসার মাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

এক সমীক্ষা অনুসারে, কিছু পণ্যে সীসার উপস্থিতি জাতীয় সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে ৫০০ গুণ পর্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে!

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীসার ভূমিকাজনিত কারণে বাংলাদেশে আইকিউ হ্রাস পাওয়ায় অর্থনৈতিক যে ক্ষতি হয় তা দেশের জিডিপির ৫.৯ শতাংশের সমান। সীসার বিষক্রিয়া শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশের সক্ষমতাকে ব্যাহত করে এবং জীবনে পাওয়া সুযোগগুলোর সর্বাধিক সুবিধা গ্রহণে তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ