সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারেই ভঙ্গুর  ----মির্জা ফখরুল

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারেই ভঙ্গুর বলে জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সদ্য মরহুম সভাপতি শফিউল বারী বাবুর বাসায় পরিবারের সদস্য সান্ত¡না জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বাবুর (শফিউল বারী বাবু) এভাবে মৃত্যু- এটা আরেকটা সত্য উতঘাটিত করেছে যে, বাংলাদেশের  স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারেই ভঙ্গুর। এখানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি যে মানুষ আস্থা রাখতে পারে না-বাবুর অসুস্থতা, তা চলে যাওয়া এটাই প্রমাণ করে। অনেকে অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশর মানুষরা বাইরে চিকিৎসা করতে যায় কেনো? এজন্য যায় যে, এখানে আপনার ডায়োগনেসিস করা সম্ভব হয় না, ডায়োগনেসিসে সমস্যা হয়, বিভিন্নভাবে এখানকার..। সমস্ত ব্যবস্থাটা ইট সেলফ রোগীদের জন্য একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

শফিউল বারী বাবুকে ‘মেধাবী’ নেতা হিসেবে অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ বাবুর মতো একজন জনপ্রিয়, সচেতন রাজনৈতিক নেতা এভাবে চলে যাবে এটা আমরা কল্পনাই করতে পারিনি। তার অল্প সময়ের জীবনের ক্যারিয়ার বর্ণাঢ্য। তাকে শুধু বিএনপির জন্য নয়, তাকে দেশের মানুষের জন্য, মানুষের জন্য প্রয়োজন ছিলো। হি হেভ অল দ্যা কোয়ালিটিজ, তার সম্ভাবনা ছিলো।

তিনি এদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে একটা ব্যতিক্রম। আমি কিছুক্ষন আগে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলাম- দুইটা বাচ্চা রেখে গেছে। মাথা গুজার ঠাইটুকু নাই। এখনো ভাড়া বাসায় থাকেন।তার স্ত্রীও কাজ করছিলো একেবারে। এখন তাকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আমার একটাই অনুরোধ থাকবে আমার সকলের কাছে- তার পরিবার, স্ত্রী-সন্তানদের আমাদের নিজেদের মানুষ মনে করে আমরা যেন এগিয়ে আসি এবং সহযোগিতার হাত বাড়াই।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি আমাকে বলেছেন যে, তার সাথে দেখা করে বলেন যে, আমরা তার সঙ্গে আছি, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবও বলেছেন যে, বলবেন যে, আমি আছি তার সঙ্গে। আমরা সবাই তার সঙ্গে আছি, এই লড়াই শুধু তার স্ত্রী একা লড়বে না, তার সাথে আমরাও লড়বো।

আল্লাহতা‘লা বাবুর বেহেস্ত নসিব করুক। তার স্ত্রী ও সন্তানদেরকে এই শোক সহ্য করবার ক্ষমতা দিক, বাবু চলে যাওয়ায় আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা যেভাবে ভেঙ্গে পড়েছে আল্লাহ তাদেরকে শোক সহ্য করবার শক্তি দিক।

দুপুরে নিউ ইস্কাটনে শাইনপুকুর এপার্টমেন্টে  শফিউল বারী বাবুর বাসায় গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বাবুর স্ত্রী বিথীকা বিনতে হোসাইনের সাথে কথা বলে সমবেদনা জানান। বাবুর ছোট দুই ছেলে মেয়ে ফাতেমা বারী তুহিন ও আয়হান বারী সাঈদকে কাছে নিয়ে আদর করেন মির্জা ফখরুল।

এ্ সময়ে বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতন, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, গোলাম সারোয়ার, ইয়াসীন আলী,  চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

নয়া পল্টন কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল

সকাল সাড়ে ১১টায় কার্যালয়ের নিচ তলায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে  শফিউল বারী বাবুর স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আাবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান জুয়েল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, আকরামুল হাসান, যুব দলের মোরতাজুল করীম বাদরু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,  ছাত্র দলের ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

রিজভী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাবুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘‘ এখন চারিদিকে যে দুর্দিন চলছে, এই দুর্দিনে শফিউল বারী বাবুও সামনের কাতারে থাকতো। দুর্দিনের একজন বলিষ্ঠ সিপাহশালাকে আন্দোলনের কাফেলা থেকে আমরা হারালাম।

আমাদের চলমান এই আন্দোলন, এখনো গণতন্ত্র ফিরে আসেনি, এখনো কর্তৃত্ববাদী শাসন, এখনো গুমের আতঙ্ক, এখনো মিথ্যা মামলার আতঙ্ক, এখনো যেকোনো সময়ে ক্রসফায়ারের আতঙ্ক। এই আতঙ্কের মধ্যে যে সমস্ত নির্ভিক তরুন, উদ্দিপ্ত তরুন মিছিলের সামনে থাকতো তার মধ্যে বাবু(শফিউল বারী বাবু) একজন। আমাদের মাঝে সেই বাবু নেই তবে আমরা সবসময় তাকে স্মরণ করবো।

পরে বাবুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে েিব্শষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ক্কারী রফিকুল ইসলাম।

গত ২৮ জুলাই শফিউল বারী বাবু ফুসফুস জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে এভার গ্রীন হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫১ বছর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ