রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শহিদুলকে ধরে নেওয়া হয়েছিল দুদিন আগেই দাবি পরিবারের

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পল্লবী থানার ভেতরে বোমা বিস্ফোরণে চার পুলিশসহ পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আসামিরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও মোশাররফ। এদিকে বোমাসহ গ্রেফতার শহিদুলকে দু‘দিন আগেই ধরে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে তার পরিবার। অন্যদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর  দায় স্বীকারের খবর আসলেও পুলিশ বলেছে এ তথ্য সঠিক নয় ‘ভুয়া’। গত বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্সের গবেষক ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রিটা কাৎজ এক টুইট বার্তায় আইএসএর দায় স্বীকারের এ তথ্য জানান। পুলিশ বলছে, আইএস এ ধরনের মিথ্যা দায় আগেও স্বীকার করেছে। এ হামলার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেছে। 

শহিদুল কবে গ্রেফতার ? যে তিনজনকে গ্রেফতার করে পল্লবী থানায় নেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে, তাদের একজন শহিদুল ইসলামকে দুদিন আগেই ধরে নেওয়া হয়েছিল বলে তার স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। শহিদুলকে গত সোমবার তুলে নেওয়ার পর পল্লবী থানায় করা জিডির কপিও গণমাধ্যমকে দেখিয়েছেন তার বড় ভাই রফিকুল ইসলাম। ঘটনাটি র‌্যাবকেও জানিয়েছিলেন বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তাই কোনো কথা বলছেন না বলে অভিযোগ শহিদুলের স্বজনদের। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বাউনিয়াবাদ এলাকায় সবজি বিক্রেতা আব্দুল কাদেরের ৪ ছেলে এক মেয়ের মধ্যে শহিদুল (২৩) চতুর্থ। পেশায় তিনি বাসচালক। গত বুধবার মধ্যরাতে শহিদুলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পল্লবী থানায় নেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে চারজন পুলিশসহ পাঁচজন আহত হন। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় এদিন দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, রফিকুল ইসলাম (৪০), শহিদুল (২৩) ও মোশাররফ হোসেন (২৬) নামে ওই তিনজনকে গ্রেফারের সময় তাদের আছে একটি ওজন মাপার যন্ত্রের মতো ডিভাইস পাওয়া যায়, তার ভেতরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। শহিদুলের ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের ভাইকে খোঁজার এক পর্যায়ে তারা এই খবর পান। তিনি বলেন, বাসার কাছে আক্কাস আলীর চা-বিস্কুটের দোকান থেকে গত সোমবার বিকালে শহিদুলকে তুলে নিয়ে যায় মাইক্রোবাসে আসা একদল লোক। ছেলের মুখে তিনি শুনেছেন, একটি কালো মাইক্রোবাস থেকে দুই-তিনজন নেমে অস্ত্র দেখিয়ে তার দোকানের সামনে থেকে তুলে নিয়ে দ্রæত চলে যায়। শহিদুলের বাবা আব্দুল কাদের জানান, দৌড়ে গিয়ে তিনি গাড়ি পাননি। পরে লোকমুখে শুনেছেন ‘ডিবি পুলিশের লোকজন’ এসেছিল, তারা তার ছেলেকে তুলে নিয়ে গেছে। এর আগেই শহিদুলের মা পেয়ারা বেগম ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পল্লবী থানায় একটি জিডি করেন। কাদের দাবি করেন, তার ছেলে নিরাপরাধ। তাকে কেউ ফাঁসিয়ে দিয়েছে। যে তিন দিন ধরে গ্রেফতার হয়ে রয়েছে, সে কেমনে বোমা মারে এটাই আমি জানতে চাই বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ও গ্রেফতারকৃতদের বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি’র) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, থানায় হামলায় কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আপনার বক্তব্য আমরা তদন্ত করে দেখবো। আমরা এ ধরনোর কোনো তথ্য পাইনি। আমরা তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করেছি। যে বস্তুটি উদ্ধার করেছি (বোমা) সেটা আপনারা দেখেছেন। এর বাইরে যদি কোনো বিষয় থাকে সেটা আমরা তদন্ত করে দেখবো।’ আরেক প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘এখন যদি আপনি সব প্রশ্নের উত্তর চান তাহলে দেয়া যাবে না। আবার অনেক কিছু আছে যা তদন্তের স্বার্থে আপনাকে বলাও যাবে না।  আইএসের এই দায়স্বীকারের বিষয়টিকে ‘ভুয়া’ বলে মনে করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। পুলিশ ইউনিটটির উপকমিশনার (ডিসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা এ ঘটনাটি এখনো তদন্ত শুরু করিনি। তবে সকাল থেকে পুলিশের অন্যরা ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত আমরা যা কিছু তথ্য পেয়েছি, তাতে ধারণা করছি এ ঘটনায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা জড়িত। এই বিস্ফোরণে কোনো জঙ্গি সংগঠন বা গ্রুপের জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ