রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কুরবানির ঈদ উদযাপন করুন ত্যাগের শিক্ষায় 

কুরবানি ঈদের আনন্দ ত্যাগে, সহমর্মিতায় আর সহযোগিতায়। সুতরাং কুরবানির ঈদ উযাপন করুন ত্যাগের শিক্ষায়। সহযোগিতা আর সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিন নিরন্ন মানুষের প্রতি। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের খান ও সেক্রেটারি এস এম লুৎফর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরবাসীকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি- ঈদ মোবারক। পাশাপাশি কুরবানির তাৎপর্য, ইতিহাস ও শিক্ষাকে ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। কুরবানির প্রচলনের ইতিহাস হলো নবি ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মাধ্যমে। তিনি আল্লাহর নির্দেশে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজের সবচেয়ে প্রিয়কে কুরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে যান। তার সেই প্রিয় জিনিসটি ছিল তারই শিশুপুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালাম। পরে আল্লাহ তায়ালা তাঁর কুরবানি কবুল করে নিয়ে ইসমাইল আলাইহিস সালামের পরিবর্তে তাকে দিয়ে একটি দুম্বা কুরবানি করান। সুতরাং কুরবানির মূল শিক্ষা হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিসকে আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেওয়া। অতএব আসুন, কুরবানির ঈদের আনন্দ উদযাপনে কুরবানির মূল শিক্ষাকে ধারণ করি। অসহায় নিরন্ন অভাবী দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াই। নিজের প্রিয় ধন-সম্পদ থেকে তাদের অধিকার আদায় করে দিই। নিজের প্রিয় কুরবানি থেকে তাদের জন্য গোশত বিতরণ করি। প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন, অসহায় মানুষের প্রতি নিজেদের হাতকে আরও সম্প্রসারিত করি।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে কুরবানির ঈদ উদযাপনে নিন্মোক্ত বিষয়াদি খেয়াল রাখার আহ্বান জানান :১. দ্বীনি বিধিবিধান ও নির্দেশনা অনুসরণ করে কুরবানি করুন।২. গরু-ছাগলের হাট, ঈদ জামায়াত এবং কুরবানি করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।৩. কুরবানির পশুর রক্ত, গোবর, বর্জ্য ইত্যাদি গর্ত করে মাটিতে পুতে ফেলুন। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে সেবা গ্রহণ করুন।৪. কুরবানির গোশতের অংশ দ্বীনি নির্দেশনার আলোকে আত্মীয়, প্রতিবেশি ও অভাবী মানুষকে দান করুন।৫. কুরবানির চামড়ার মূল্য গরিবদের হক। সুতরাং চামড়া নিয়ে অবৈধ অনৈতিক সিন্ডিকেট বন্ধে সরকারি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবিতে সোচ্চার হোন।৬. ঈদ উপলক্ষ্যে আপনার অধিনস্থ শ্রমিক, মজুর, চাকুরিজীবী, গৃহকর্মীদের ঈদবোনাস সহ সকল বকেয়া বেতন আদায় করুন।৭. গার্মেন্টস, বন্দর, কলকারখানা, পরিবহন, রিকশা-ঠেলা-ভ্যান, নির্মাণ, বিদ্যুত, ওয়াসা, হোটেল, দোকান কর্মচারী, দিনমজুর সহ সকল সেক্টরে কর্মরত শ্রমিক মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হোন।৮. ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়নে জনমত গড়ে তুলুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ