শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধে কর্মমুখী হয়ে পড়ছে খুলনার শিক্ষার্থীরা

খুলনা অফিস : দশম শ্রেণী পড়ুয়া রাহুল গাজী। বয়স সবে ১৫। করোনায় বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নেই পড়াশোনারও চাপ। তাই সময় কাটাতে করছে গো-খাদ্য বিছালি কাটার কাজ। সাথে রয়েছে আরেক মাদরাসা ছাত্র শিবলী সাদিক। দু’জনে মিলে সারাদিন গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিছালি কাটে। যা আয় হয় তা পরিবারের সংসার চালানোর কাজেই ব্যয় করেন তারা।

রাহুল গাজী বলেন, ‘স্কুল বন্ধ, সময় কাটে না, তাই আরেক জনের সাথে বিছালি কাটতি আসি। প্রতিদিন প্রায় দুই তিনশ’ টাকা করে হয়। যা হয় মা’র কাছে দিই। পড়াশুনা করার তেমন সময় পাইনে। মাঝেমধ্যে সকালে বা রাতে একটু বসি।’

আরেক ছাত্র শিবলী সাদিক বলেন, ‘আমি হেফজ পড়ি। সতোরো পারার হাফেজ। করোনায় মাদরাসা বন্ধ, সময় কাটে না, বসে ছিলাম তাই চাচাতো ভাই বিছালি কাটার এই গাড়িডা বানায় দেছে। যা আয় হয় আমরা তিনজন ভাগ করে নিই। এই টাকা কিছু বাড়ি দিই আর নিজের পকেট খরচ চালায়।’

শুধু রাহুল বা শিবলী নয়, বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এখন কর্মজীবী। করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কর্মমুখী হয়ে পড়ছে এসব শিক্ষার্থীরা। পারিবারিক অস্বচ্ছলতা আর সময় কাটাতে অনেকেই বেছে নিচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কাজও। 

এদের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে কেউ করছে ক্ষেত বা খামারে দিন মজুরের কাজ, কেউ হোটেলে বা চায়ের দোকানে, কেউ গ্যারেজে বা ওয়ার্কশপে, কেউ ভ্যান বা ইজিবাইক চালাচ্ছে, আবার কেউ করছে ডাব বা সবজির ব্যবসাসহ ছোটখাট বিভিন্ন ব্যবসা। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা ঘুরে হরহামেশা এমনটিই চোখে পড়ে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ