শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সিনিয়র সাংবাদিক কাজী শামসুল হুদা আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার: সিনিয়র সাংবদিক, দৈনিক সংগ্রামের সাবেক মফস্বল সম্পাদক, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সিনিয়র সদস্য কাজী শামসুল হুদা আর নেই। ইন্না লিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ইন্তিকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়ছিল ৭৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানাবিধ রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে, এক ছেলেসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন শোক প্রকাশ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
গতকাল বুধবার বাদ জোহর মিরপুর সাংবাদিক আবাসিক এলাকার মসজিদে শামসুল হুদার নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক গৃহসংস্থান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম,  দৈনিক সংগ্রামের বার্তা সম্পাদক সা’দাত হোসাইন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম, নয়াদিগন্তের কার্টুনিস্ট শিল্পী হামিদুল ইসলাম প্রমুখ। নামাযে জানাযা শেষে কালসী কবরাস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়েছে।
কাজী শামসুল হুদার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিউনের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম ও সেক্রেটারি ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি জাকির হোসেন ইমন ও   সাধারণ সম্পাদক কাজী মোক্তাদির অনিক। নেতৃবৃন্দ শোক বার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এছাড়া দৈনিক সংগ্রাম পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল বাদ মাগরিব মরহুম শামসুল হুদার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। এতে দৈনিক সংগ্রামের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিউনের (বিএফইউজে) সভাপতি  ও দৈনিক সংগ্রামের চীফ রিপোর্টার রুহুল আমিন গাজীসহ দৈনিকটির গণমাধ্যম কর্মীরা অংশ নেন।
জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে শামসুল হুদা সাব এডিটর হিসেবে দৈনিক সংগ্রামে তার পথচলা শুরু করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে তিনি সর্বশেষ মফস্বল সম্পাদক হিসেবে কর্মজীবন শেষ করেন। তিনি ২০১৫ সালে তিনি অবসরে যান। দীর্ঘ এই কর্মজীবনে তিনি কাজের প্রতি ছিলেন খুবই দায়িত্বশীল। একইসাথে সময়ের প্রতি ছিলেন সচেতন। একজন সহজ-সরল, পরিচ্ছন্ন, নিরহংকার ও সাদা মনের মানুষ বলতে যা বুঝায় তার সব ক’টি গুনই তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। তিনি সদালাপী মানুষ ছিলেন। হাসিমুখে সবার সাথে কথা বলতেন। দৈনিক সংগ্রামে মফস্বল সম্পাদক হিসেবেই তার পরিচিতি ছিল বেশী। তার মৃত্যুর খবরে সংগ্রাম কার্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। একইসাথে জেলা ও মফস্বল সংবাদদাতারাও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে শামসুল হুদা ছিলেন সুখী মানুষ। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন তিনি। তার একমাত্র ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ-এমবিএ পাস করে এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে কর্মরত আছেন। দুই মেয়েও স্বামী-সংসার নিয়ে স্বস্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ