মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কাদায় গোবরে একাকার রাজধানীর পশুর হাটগুলো

এইচ এম আকতারঃ রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে কাদা আর গোবরে একাকার। এতে করে ক্রেতা- বিক্রেতার দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে কষ্ট উপেক্ষা করে চলছে বেচাকেনা। দাম কমবেশি নিয়ে পরস্পর বিরোধী অভিযোগ থাকলেও জমে উঠেছে পশুর হাটগুলো।

টানা বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ হাটেই কাদা পানি জমে গেছে। এতে করে পশু এবং বেপারীরা বিশ্রাম নিতে পারছে না। হাটের অনেক স্থানে ক্রেতা প্রবেশ করতে পারছে না। তবে বিকেলে নতুন  বৃষ্টি  আর না  হওয়াতে কিছুটা স্বস্তির দেখা গেছে।       
গতকাল   বুধবার বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ক্রেতাশূন্য পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ ক্লাব মাঠে দাঁড়িয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা গরুর ব্যাপারী আনসার আলী এ কথা বলছিলেন। এ সময় পাশেই ঘুমিয়ে থাকা বেশ কয়েকজন শ্রমিককে দেখিয়ে বললেন, আইজকার দিনটা বাদ দিলে ঈদের বাকি আর মাত্র দুদিন। এমন সময় ওদের দম ফেলার উপায় থাকার কথা নয়। কিন্তু কাস্টমার না থাকায় কাজ নাই, তাই ঘুমাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ও গতকাল সকালের বৃষ্টির কারণে রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এ হাটটির গরুর ব্যাপারীরা বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে পুরো হাটে কাদাপানি জমে চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হাটে এমনিতেই ক্রেতা নেই, স্বল্পসংখ্যক ক্রেতা যারা গরু কিনতে এসেছেন তারা ঘুরেফিরে পছন্দসই গরু খুঁজতে পারছেন না। জুতা পায়ে হাঁটতে গিয়ে কাদায় আটকে যেতে হচ্ছে। নিরূপায় হয়ে অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অধিকাংশ গরুর গায়ে কাদা। ব্যাপারীদের অনেককেই খোয়াড়ের সামনে বালি ফেলে ক্রেতাদের শুকনো জায়গায় দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
ফরিদপুরের ভাঙ্গার গরুর ব্যাপারী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বেচাকেনা ভালো হয়েছে। ক্রেতাদের সমাগম বেশ ভালো ছিল। দুই টাকা কম আর বেশি লাভে গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বেচাকেনার সর্বনাশ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, তারা ২৬ জন মিলে ৩১টি গরু হাটে নিয়ে এসেছেন। ঘরে পালা একটি গরু বিক্রির জন্য এনেছেন তিনি। তোফাজ্জল হোসেন গরুটির দাম ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চেয়েছেন। গতকাল এক ক্রেতা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম করেছিলেন। কিছু বাড়ালে তিনি গরুটি ছেড়ে দিতেন। এমন সময় বৃষ্টি নামার কারণে ক্রেতা আর আসেননি। আজ একজন ক্রেতা আরও ১০ হাজার টাকা কম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম বলেছেন।
আরেক এক ব্যাপারী ফরিদপুরের জসিম বলেন, হাট ইজারাদারদের প্রতিনিধিদের কাছে মাঠে বালু ফেলার অনুরোধ জানালেও তারা কোনো উদ্যোগ নেন না। এমন পরিবেশ থাকলে ক্রেতারা ভুলেও হাটে গরু কিনতে আসবেন না বলে তিনি জানান।
এদিকে রাজধানীর কোন হাটেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এতে করে ত্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি দেখা গেছে। এতে করে অনেক ক্রেতা গরি কিনতে গভীর রাতে হাটে আসছেন।
স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না এমন খবরে গতকাল রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাটেই অভিযান চালানো হয়েছে। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে মনিটরিং ও। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই করোনা টেকনিকেল কমিটি সুপারিশ করেছিল ঢাকায় যাতে কোন  হাট না বসে। সরকার এ রকম ঘোষণাও দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেনি।
তবে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে এবছর গরুর দাম তেমন বেশিও না আবার কম ও না। এখন পর্যন্ত ক্রতা বিক্রেতা সন্তুষ্ট রয়েছেন। হাট জমে উঠলেও এখনো পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ