বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ঈদের ছুটিতে আসা-যাওয়া

পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটি উপলক্ষে মানুষ এরই মধ্যে বাড়ি ফেরা শুরু করেছেন। কিন্তু শুরুতেই যথারীতি ঝামেলা বাধিয়েছে রেলওয়ে। বিভিন্ন দৈনিক ও গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, এবারও ট্রেনের ‘শিডিউল বিপর্যয়’ ঘটতে শুরু করেছে। যে ট্রেনটির সকাল নয়টায় ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সে ট্রেন দুপুর ১২টায়ও কমলাপুর এসে পৌঁছাচ্ছে না। ফলে ফিরতি ট্রেনও নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে পারছে না এবং যাত্রীরা পড়ছেন বিড়ম্বনার কবলে। তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে স্টেশনে। শিডিউল বিপর্যয়ের কবলে পড়ছে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলো। দিন কয়েক আগে যমুনা সেতুর মুখে একটি ট্রেন বিকল হয়ে পড়ার পর থেকে ভোগান্তি বেড়েছে অনেক। এদিকে ঈদের বাকি রয়েছে মাত্র দু’দিন। এ দু’দিনে যাত্রীদের কপালে কত ধরনের ভোগান্তি রয়েছে সে সম্পর্কে অনুমান না করাই ভালো। আমরা চাই, শিডিউল বিপর্যয়ের নামে যাত্রীদের যাতে ভোগান্তির শিকার না হতে হয়।
আমাদের উদ্বেগের কারণ হলো, করোনার মহামারির মধ্যেও প্রতি বছরের মতো এ বছরও ঈদুল আযহার ছুটি উপলক্ষে মানুষের বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগে থেকে। লঞ্চ-স্টিমার, বাস ও ট্রেনের টিকেট যোগাড় করা থেকে কুরবানির পশু কেনার জন্য টাকা পাঠানোসহ বাড়ি যাওয়ার জন্য যা কিছু করার সবই করেছেন মানুষ। কারণ, ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার এই একটি বিষয়ে বাংলাদেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্যেই অসাধারণ মিল রয়েছে। বাড়ি গিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি ঘর-বাড়ি নির্মাণ ও জমিজমা দেখাশোনা করাসহ পারিবারিক অন্য অনেক কাজও মানুষ এই কয়েকদিনে করে থাকেন। সব মিলিয়ে তাই ঈদের ছুটি এক বিরাট সুযোগ হয়ে আসে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, কোনো ঈদের ছুটিই মানুষের পক্ষে নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে কাটানো সম্ভব হয় না। ট্রেন ও বাসের টিকেট পাওয়ার জন্য রাত থেকে সারাদিন, এমনকি ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতা আজকাল বিভিন্ন বয়সের নারীদেরও হচ্ছে। তাই বলে লাইনে দাঁড়ালেই কিন্তু টিকেট মেলে না, টাকা গুণতে হয় নির্ধারিত দামের চাইতে কয়েকগুণ বেশি। তার ওপর করোনার কারণে এবার অনেক বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য, যার সঙ্গে কর্তাব্যক্তিরাও জড়িত থাকেন।
ওদিকে মারাত্মক আশংকার সৃষ্টি হয়েছে লঞ্চ ও স্টিমারকে কেন্দ্র করে। কারণ, প্রায় তিন কোটি মানুষ যে লঞ্চ ও স্টিমারে যাতায়াত করেন সেগুলোর অবস্থাকে শোচনীয় বলাও যথেষ্ট নয়। এবারও বেশ কিছুদিন ধরেই ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা অসংখ্য লঞ্চ ও স্টিমারকে লাল-নীল রং লাগিয়ে এবং বডিতে ঝালাই করে ‘প্রস্তুত’ করা হয়েছে। এসবের সচিত্র রিপোর্ট বিভিন্ন টিভি চ্যানেলেও দেখানো হয়েছে। কিন্তু বিআইডাব্লিওটিএ বা সরকারের কোনো সংস্থাকেই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। ফলে ধরেই নেয়া যায়, এবারের ঈদের ছুটিতেও ছাদ বোঝাই করে যাত্রীদের যেমন নেয়া হবে, তেমনি দুর্ঘটনায়ও মারা যাবে অসংখ্য মানুষ। সড়ক পথেও যথারীতি দুর্ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে। কারণ, ‘উন্নতি’ হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হলেও তথ্যাভিজ্ঞরা মনে করছেন, এবারও সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়তে পারে অনেক সড়ক-মহাসড়ক। কারণ, অধিকাংশস্থানেই দায়সারাভাবে নির্মাণ কাজ শেষ করেছে ঠিকাদাররা। সেজন্য  বহুস্থানে রয়ে গেছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানা-খন্দক। ফলে যানবাহন যতো বেশি চলাচল করবে ততো বেশি এবড়ো-থেবড়ো হয়ে পড়বে সড়ক-মহাসড়কগুলো। মূষলধারে শ্রাবণের বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলে তো কথাই নেই।
সরকারকে তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার এবং করোনার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারেও জোর প্রচারণা চালাতে হবে। আমরা আশা করতে চাই, ঈদের ছুটিতে মানুষের বাড়িতে যাওয়া-আসা নিরাপদ এবং আনন্দময় করার ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট হয়ে উঠবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ