রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

হুমকির মুখে বৈদেশিক শ্রমবাজার

ইবনে নূরুল হুদা:

রাজনৈতিক অস্থিরতা, লাগামহীন দুর্নীতি ও অবাধ লুটপাটের কারণে এমনিতেই আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। আর বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে তা আরও প্রান্তিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। স্বাধীনতার প্রায় ৫ দশক পরও নানাবিধ কারণে আমাদের অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারেনি। ভঙ্গুর অর্থনীতিতে যেসব অনুষঙ্গগুলো আমাদের অর্থনৈতিক গতিধারাকে কোনমত সচল রেখেছে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সেসবও এখন হুমকীর মুখে পড়েছে।

আমাদের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির দু’টি প্রধান চালিকাশক্তির একটি রপ্তানি এবং অপরটি প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। কিন্তু করোনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী মন্দাভাব সৃষ্টির আশঙ্কায় এই দু’টি খাতই এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মহামারিতে দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাত প্রবাসী আয় আশঙ্কাজনকভাবে কমতে শুরু করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক শ্রমবাজারের দরজা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। আশা করা হয়েছিল যে, নতুন বছরের বাজেটে প্রবাসী শ্রম খাত সুরক্ষায় জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে কাজ হারিয়ে দেশে ফেরা শ্রমিকদের সহায়তায় উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ এবং বিদেশে ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার রক্ষায় কার্যকরী ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ আশা করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু  সে আশায় গুঁড়েবালী পড়েছে। কারণ, নতুন বাজেটে এই আশাবাদের কোন প্রতিফলন ঘটেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের বৈদেশিক শ্রমবাজারে ভাটির  টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরে এসেছে ৬ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৩ জন প্রবাসী শ্রমিক। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় আরও কয়েক লাখ প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস অভিবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের ফেরত আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে। এদিকে মহামারি শুরুর আগে বা মহামারির সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটিতে আসা শ্রমিকদের একটা বড় অংশই আবার কর্মস্থলে ফেরার বিষয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এদের অনেকেই হয়তো কাজ হারিয়েছেন অথবা কাজ হারিয়ে আর ফিরতে না পারার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আমাদের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক শ্রমবাজার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। কিন্তু করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বড় ধরনের দরপতনে অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার জন্য সৌদি সরকার অনেক বড় বড় প্রকল্প স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সঙ্গত  কারণেই বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিককে পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠাবে দেশটি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১২ লাখ। ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে থাকা এই শ্রমিকদের বড় একটি অংশই প্রবাসী বাংলাদেশী। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসও সম্প্রতি জানিয়েছে, মহামারির নৈতিবাচক প্রভাবে চলমান অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ১০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসীকে দেশে ফিরে আসতে হতে পারে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রায় ২১ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে যে ১ লাখ ২৯ হাজার বাংলাদেশী কাজের জন্য বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন তার মধ্যে ৯৫ হাজার ৩৮৪ জনই গিয়েছেন সৌদি আরবে। কিন্তু একদিকে করোনা মহামারির কারণে জ্বালানি তেলনির্ভর অর্থনীতিতে মন্দা, অপরদিকে সৌদি আরবের ২০৩০ ভিশন অনুযায়ী পুরো সৌদির শ্রমবাজারে ৭০ শতাংশ সৌদি নাগরিককে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কারণে দেশটিতে ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারও সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের ৭৩ শতাংশের বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্যের গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা ‘জিসিসি’ দেশগুলো থেকে। এই রেমিট্যান্স প্রবাহ সরাসরি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করে। সৌদি আরব এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এবং ইউরোপ-আমেরিকার অভিবাসী শ্রমবাজারের অবস্থাও খুবই সংকটাপন্ন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ি বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ দেড়শতাধিক দেশের শ্রমবাজারে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। জিডিপিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ১২ শতাংশ। আর করোনা মহামারির মধ্যেও প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। কিন্তু প্রবাসী আয় যে কমছে তাও অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। বিদায়ী অর্থবছরে ২১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী আয় এসেছে ১৭ বিলিয়ন ডলার। এমতাবস্থায় দেশে ফেরা প্রবাসী শ্রমিকদের সহায়তায় বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সাথে শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে যোগ্য প্রতিনিধি নিয়োগ, ভবিষ্যৎ বৈদেশিক শ্রমবাজার নিয়ে গবেষণা জোরদারসহ অভিবাসী কর্মী হতে আগ্রহীদের নানা পেশায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও জরুরি মনে করছেন তারা। কিন্তু এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও উদাসীনতা সার্বিক পরিস্থিতিকে অবনতির দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের বৈদেশিক শ্রমবাজার সংকোচিত হয়ে আসার অন্যতম কারণ হচ্ছ দক্ষ জনশক্তির অভাব। আর এই অভাব পূরুণের জন্য  সম্প্রতি বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলছে সরকার ও বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, আগামী পাঁচ বছরে সাড়ে ৩ লাখ বিদেশি দক্ষ কর্মী নেবে জাপান। যা বাংলাদেশের জন্য একটা বড় সুযোগ বলে মনে করা হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য শ্রমিকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হলেও তার সাথে বাস্তবতার কোন মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।  আসলে বৈদেশিক শ্রমবাজারে এখন অদক্ষ ও আধাদক্ষ শ্রমিকের চাহিদা তেমন নেই। সঙ্গত কারণেই দেশ থেকে শ্রমিক পাঠানোর গ্রাফটা নি¤œমুখী। জনশক্তি, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র বলছে, দক্ষতার অভাবজনিত কারণে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ৩৪ হাজার কর্মী কম গেছেন বিদেশে। ২০১৮ সালে ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জন কর্মী বিদেশে গেলেও ২০১৯ সালে গেছেন ৭ লাখ ১৫৯ জন কর্মী। সে হিসাবে ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ৩৪ হাজার ২২ জন কম কর্মী বিদেশে গেছেন। 

এমনকি, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ফেরতও আসছেন বিভিন্ন দেশ থেকে। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৬৫ হাজার ৩৭২ জন কর্মী ফেরত এসেছেন। ২০১৮ সালে ফেরত এসেছেন ৬৮ হাজার ৩৮২ জন কর্মী। শুধু মালয়েশিয়া থেকেই ফেরত এসেছেন ৫০ হাজার কর্মী। জানা গেছে, সংশ্লিষ্টরা দেশগুলো নানা কারণে কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি না করায় বাধ্য হয়ে তাদের ফেরত আসতে হচ্ছে। ২০১৪ থেকে ২০১৯ গত ছয় বছরে সবচেয়ে বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন ২০১৭ সালে। সে বছর বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন কর্মী। আর সবচেয়ে কম গেছেন ২০১৪ সালে, ৪ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৪ জন। অবশ্য সে বছর ফেরতও এসেছেন কম ৪৭ হাজার ২৬১ জন। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে এখন দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি। সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো দাবি করছে, তারা এই সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি মালয়েশিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব কিংবা দুবাই অর্থাৎ শুধু মধ্যপ্রচ্যভিত্তিক নয়, বিশ্বের অন্যসব দেশেও কীভাবে দক্ষ কর্মী পাঠানো যায় সে চেষ্টাও করা হচ্ছে। একই সাথে নতুন শ্রমবাজার খোঁজা হচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় জাপানে জনশক্তি পাঠানো শুরু হয়েছে। ফলে দক্ষ কর্মীর একটা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এজন্য শ্রমিক কম গেলেও রেমিট্যান্স কিন্তু বাড়ছে-এমনই দাবি সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু সরকারি দাবির সাথে  বাস্তবতার বড় ধরনের তফাৎই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

মূলত জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় তিনটি শ্রমবজারের মধ্যে দু’টি দীর্ঘদিন যাবৎ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। এর মধ্যে ১৬ মাস ধরে বন্ধ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। নয় বছর ধরে কর্মী পাঠানোয় গতি নেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে। নতুন করে বড় কোনো শ্রমবাজারেও ঢুকতে পারেনি বাংলাদেশ। আগের বছরের তুলনায় গত বছর প্রায় ৫ শতাংশ কর্মী কম গেছেন বিদেশে। তার আগের বছর কমেছিল ২৭ শতাংশ। 

সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বরাবরই দাবি করে আসছে যে, দীর্ঘদিন ধরে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। কার্যত তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। কারণ, নতুন কয়েকটি শ্রমবাজারের সম্ভাবনা দেখা দিলেও সেখানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারায় বাংলাদেশ এখনো পিছিয়েই রয়েছে। অথচ যথাযথ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারলে এখনও আমাদের বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এক্ষেত্রে বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরে শিল্পকারখানা, নির্মাণকাজ, সেবাদানকারীসহ ১৪টি খাতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ দক্ষ জনশক্তি নেবে জাপান। কিন্তু বিরাট সম্ভাবনাময় এ বাজার ধরতে পারছে না বাংলাদেশ। দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে অতি ধীরগতিই এর কারণ। সরকারি হিসাব মতে, গত বছর মাত্র ১৬৩ জন জাপানে পাঠাতে পেরেছে বাংলাদেশ। চলতি বছর এ সংখ্যা ৪০০ জনে পৌঁছাতে পারে। অবশ্য  সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, জাপানে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল ম্যানপাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (আইএম) জাপানের সঙ্গে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় সরকারিভাবে বর্তমানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে সে দেশে। কিন্তু পরিসংখ্যান সে দাবি মোটেই সমর্থন করছে না। কারণ, এ বছরের প্রথম তিন মাসে জাপানে গেছেন মাত্র ৪০ জন দক্ষ শ্রমিক। 

বিএমইটি সূত্র জানায়, জাপানের মানুষের গড় আয়ু ৮৪ বছর হলেও ১০০ বা তার অধিক বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। বয়স্ক এসব মানুষের সেবার জন্য দক্ষ জনবল দরকার। নির্মাণশিল্প, প্রযুক্তি, নার্সিং, কৃষি, হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম খাতেও কাজের সুযোগ আছে সেখানে। থাকা-খাওয়া বাদে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা উপার্জনের সুযোগ পাবেন একজন দক্ষ শ্রমিক। কিন্তু সরকারের যথাযথ পরিকল্পনা ও যথাযথ উদ্যোগের অভাবেই জাপানের শ্রমবাজার ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের পক্ষে শ্রমিকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের কথা বলা হলেও সে ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্বলতার বিষয়টিও খুবই স্পষ্ট। সব কিছুই দায়সারা গোছের।  তাই শ্রমবাজার সম্প্রসারণের সম্ভবনাগুলোকে আমরা মোটেই কাজে লাগাতে পারছি না। 

বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতি দেশ আমাদের মাতৃভূমি। আয়তনের তুলনায় আমাদের জনসংখ্যা খুবই বেশি। কিন্তু আমাদের এই অধিক জনসংখ্যা আমাদের জন্য মোটেই বোঝা নয় যদি আমরা প্রত্যেক নাগরিকের হাতকে কর্মের হাতিয়ার হিসেবে তৈরি করতে পারি। শুধু বিদেশে জনশক্তি রপ্তানীর জন্য নয় বরং জাতিকে আত্মনির্ভরশীল করতে হলে অধিক জনসংখ্যাকে জনশক্তিকে পরিণত করার কোন বিকল্প নেই। আর তা করতে পারলেই আমরা বৈদেশিক শ্রমবাজারও নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসতে পারবো।

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি ও মহামারি করোনার নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত। তাই কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের বৈদেশিক শ্রমবাজার হারানো একেবারে অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য আমাদেরকে নতুন নতুন বাজার তালাশ করতে হবে। আর এই বাজারে নিয়ন্ত্রণ লাভের জন্য দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির জন্য সম্ভব সকল কিছুই করতে হবে। কারণ, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে এখন অদক্ষ ও আধাদক্ষ শ্রমিকের চাহিদা একেবারে নেই বললেই চলে। তাই সময়ের চাহিদা পূরণ করতে না পারলে আমাদের বৈদেশিক শ্রমবাজার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে। যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

 

inhuda71@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ