মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রফতানি আয় বাড়াতে কাঁচামালের আমদানি বাড়াতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে পোশাক শিল্পসহ রপ্তানি খাতের পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষত পোশাক শিল্পে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চীন থেকে কাঁচামাল সরবরাহ কমে যাওয়ার এ খাতের উদ্যোক্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এ খাতের বিশেষজ্ঞরা চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে দ্রুত কাঁচামাল আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
দেশের বিজনেস কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান লাইট ক্যাসল পার্টনার্স’র (এলসিপি) এক সমীক্ষা প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।
‘বিজনেস কনফিডেন্স ইনডেক্স ২০১৯-২০’ (বিসিআই)- শিরোনামে গত বৃহস্পতিবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। গত মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৫৯টি খ্যাতনামা বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ রিপোর্ট তৈরি হয়।
লাইট ক্যাসল পার্টনার্স (এলসিপি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ, মেট্টোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এমএসসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম। 
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লাইট ক্যাসল পার্টনার্স’র (এলসিপি) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন ইসলাম।
মূল প্রবন্ধে লাইট ক্যাসল পার্টনার্স’র পরিচালক জাহিদুল আমিন বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চলমান অর্থনৈতিক ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের এখন অর্থনীতির নির্দিষ্ট খাতের পরিবর্তে প্রতিটি খাতকে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করার সময় এসেছে। তখনই আমরা পদ্ধতিগতভাবে সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে যেতে পারব। 
মাশরুর রিয়াজ বলেন, শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার স্বার্থে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি আরও জোরদার করা উচিত।
বক্তারা বলেন, চলমান করোনার প্রভাবে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে চীন থেকে আসা কাঁচামালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়। বিশেষত পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য রপ্তানি খাতে এর প্রভাব পড়ে বেশি।
সমীক্ষায় বলা হয়, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় আস্থা সূচক মাইনাস ১৯ দশমিক ২৭ পয়েন্ট এ নেমে আসে। অথচ ২০১৮ সালে একই সময়ে বেসরকারি খাতে এ সূচক ছিল প্লাস ৪৩ পয়েন্ট।
সমীক্ষায় সাক্ষাৎ প্রদানকারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশই মনে করেন, করোনার প্রভাবে গত ছয় মাসে দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ধস নামে। ৪০ শতাংশ ধারণা করছেন, এর প্রভাবে পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পে সবচেয়ে বেশি হারে শ্রমিক ছাঁটাই এর সম্ভাবনা রয়েছে।  
আলোচনায় বক্তারা এ সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। এগুলো হচ্ছে- ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা, বেসরকারি খাতে নিম্নতর ঋণপ্রবাহ, সরকারি সঞ্চয় স্কিমে সুদের হার কমে যাওয়া ইত্যাদি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ