রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মানবিক সংকটে রাবি’র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা 

রাজশাহী: রাবি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ভিড়ে জমজমাট থাকতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রেস্টুরেন্ট আর দোকানপাটগুলো। এ ছিল তাদের দৈনন্দিন জীবিকার উৎস। কিন্তু সেই কোলাহল নেই। ফলে বিপাকে পড়েছেন এসব ব্যবসায়ীরা-ফাইল ফটো

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জনমানবহীন ক্যাম্পাসে এখন সুনসান নিরবতা বিরাজ করছে। আর করোনাকালের এই অনির্দিষ্টকালীন বন্ধে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন রাবি’র শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কিন্তু এই বিপন্ন সময়ে তাদের পাশেও নেই কেউ।

দেশে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও বন্ধ রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের দোকানগুলো। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে তাদের আয় রোজগার। অনেক দোকানিই হারাতে বসেছেন ব্যবসার পুঁজিটুকুও। এ ছাড়াও সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না পাওয়ায় এসব দোকানিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও যেন কিছুই করার নেই এই পরিস্থিতিতে। দেশে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত মার্চের শেষের দিকে সরকার দেশের সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। তবে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি চিন্তা করে গত ঈদুল ফিতরের আগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সীমিত পরিসরে ব্যবসা পরিচালনার শর্তে দোকানপাট খুলে দেয়া হয়। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কারণে দোকানপাট খুলতে পারছেন না ক্যাম্পাসের দোকানিরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে স্টেশনারি, কম্পিউটার, ফটোকপি, বাইন্ডিং, টেইলার্স, খাদ্যপণ্য ও রেস্টুরেন্ট এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ সবমিলিয়ে চারশ’র মত দোকান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেট এবং বিভিন্ন আবাসিক হলের সামনে এসব দোকান অবস্থিত। দোকানগুলোর প্রধান ভোক্তা ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা। তবে বাইরের ক্রেতারাও এসব দোকানে ভীড় করে থাকেন। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ক্যাম্পাস খোলা থাকা অবস্থায় কেনাবেচা ভালো হয়। বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীরা না থাকলেও বাইরের ক্রেতাদের ঠিকই পাওয়া যায়। বর্তমানে দোকান খুলতে না পারায় দোকানিরা সংকটে রয়েছেন। অনেকেই ব্যবসার পুঁজিও হারাতে বসেছেন। সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতাও পাচ্ছেন না তারা। ফলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে তাদের। মো. মামুন নামের এক দোকানি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে দোকানগুলো একেবারেই বন্ধ। দোকান খুলতে না পারায় এক টাকাও আয় রোজগার নেই। ক্যাম্পাসের বাইরেও আয়ের কোনো উৎস নেই। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। তার মত একই অবস্থা অন্যান্য দোকানিরও। স্টেডিয়াম মার্কেটের সভাপতি জলিল উদ্দিন বলেন, বাইরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট সময় মেনে খোলা থাকলেও আমরা দোকানের তালা পর্যন্ত খুলতে পারি না। এমনকি অনেক সময় ক্যাম্পাসে ঢুকতেও পারি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, করোনা সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখতেই বিশ্ববিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, বহিরাগত কিংবা দর্শনার্থী কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। যেহেতু কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না তাই দোকানপাট খোলারও কোনো প্রশ্ন আসে না।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ