রবিবার ২৮ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

সাহেদকে ডিবি থেকে র‌্যাবে হস্তান্তর

স্টাফ রিপোর্টার: করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) চিকিৎসায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদের প্রতারণার মামলার তদন্ত র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে, সাহেদকে হস্তান্তর করা হয়েছে র‌্যাবের কাছে। র‌্যাব কর্তৃক আবেদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা মামলার আসামী সাহেদকে গতকাল বৃহস্পতিবার 

দুপুরে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করে। 

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ মামলা হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর র‌্যাব বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমসহ ১৭ জনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করে। র‌্যাবের দায়ের করা মামলাটি প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানা এবং পরে অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত মঙ্গলবার সাহেদ করিমের মামলার তদন্ত করার জন্য র‌্যাবকে দায়িত্বভার দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার নথিপত্রসহ আসামী সাহেদকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ র‌্যাবই এখন এ মামলার তদন্ত করবে।

এর আগে গত বুধবার দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, সাহেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত করবে র‌্যাব। তবে সাহেদকে নিয়ে অভিযানে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তদন্ত করবে ডিবি। তিনি আরও বলেন, ‘সাহেদকে গ্রেফতারের পর থেকে কাজ শুরু করেছে র‌্যাব। তবে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় আমরা ডিবি তদন্ত করছি। (সাহেদ) পাঁচদিন আমাদের কাছে রিমান্ডে ছিল। তার কাছ থেকে অনেক তথ্য আমরা পেয়েছি।’ ‘সাহেদ গ্রেফতারের পর তাকে নিয়ে অভিযানে উদ্ধার অস্ত্র কোনো কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি-না’-এমন প্রশ্নে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘অস্ত্রটি কোথাও ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়নি। আমরা তদন্ত করছি। মাঝে মাঝে অপরাধীরা বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি অপরাধ আড়াল করতে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।’ কী পরিমাণ করোনার নমুনা পরীক্ষায় সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা করেছে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘আমরা তদন্তে জানতে পেরেছি রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে মোটামুটি পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার করোনার রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছিল। সাড়ে পাঁচ হাজার রিপোর্টই যে গরমিল ছিল সেটা বলা যাবে না। যে সার্টিফিকেটের মধ্যে একজন ব্যক্তি করোনা পজিটিভ না হয়েও পজিটিভ দেয়া হয়েছে কিংবা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে কিন্তু অনুমান করে বলা হয়েছে পজিটিভ, সেগুলো প্রতারণার প্রমাণের জন্য কালেক্ট করতে হবে। সে প্রক্রিয়া চলছে।’

সাহেদসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১৬ আগস্ট: এনআরবি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতার দেখানোর শুনানির জন্য ৫ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। কারাগারে থাকা সাহেদকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে আবেদন করে দুদক। আদালত ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার দেখানোর শুনানির জন্য ৫ আগস্ট দিন ধার্য করেন। অপরদিকে সাহেদসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। এর আগে বুধবার দুদকের পরিচালক মো. সিরাজুল হক বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলার অন্য আসামীরা হলেন- রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিল, এনআরবি ব্যাংকের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার (এসই ব্যাংকিং) মো. সোহানুর রহমান ও একই ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসই ব্যাংকিং) ওয়াহিদ বিন আহমেদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এনআরবি ব্যাংক থেকে ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সুদসহ ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার ৩৬৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। এই সময় ৬৫ লাখ ৭৯ হাজার ২২৭ টাকা সুদ ও অন্যান্য চার্জ ধার্য করা হয়। মো. সাহেদের বিরুদ্ধে রিজেন্ট হাসপাতালের এফডিআর থেকে এক কোটি ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩৪৯ টাকা সমন্বয় করার পর সুদসহ এক কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার ৩৬৫ টাকা আত্মসাতের অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, রিজেন্ট হাসপাতালের চলতি হিসাবটি খোলার সময় কোনো জমা গ্রহণ করা হয়নি। ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর হিসাবটি খোলেন সাহেদ। এর একদিন আগেই ব্যাংকের করপোরেট হেড অফিসের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. সোহানুর রহমান ও ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদ বিন আহমেদ এসএমই ব্যাংকিং ঋণ মঞ্জুরির জন্য সুপারিশ করেন। কিন্তু ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্তানুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরদিন ১৬ জুলাই সাহেদ এবং রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। আর সাহেদের প্রধান সহযোগী তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ