রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক

মিয়া হোসেন: আজ জিলহজ্ব মাসের দ্বিতীয় দিন। হিজরী সালের এ মাসটিতে পবিত্র হজ্ব পালিত হয়ে থাকে বলে এর গুরুত্ব অত্যাধিক। এ মাসের নবম তারিখে আরাফাতের ময়দানে জমায়েত হওয়ার মধ্য দিয়ে হজ্বে গমনকারী মুসলমানরা তাদের হজ্ব কর্মের আনুষ্ঠানিক প্রধান কাজটি শেষ করে থাকেন। প্রতি বছর এ সময় পবিত্র মক্কা নগরীতে বিশ্বের মুসলমানদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠতো। কিন্তু এবছর মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বেশি লোকসমাগম হবে না। সীমিত পরিসরে পালিত হবে পবিত্র হজ¦। এ জন্য মক্কা নগরীতে এখন হজে¦র সেই আবহ নেই।

কাবাঘর জিয়ারতকে সামনে রেখে পবিত্র হজ্বব্রত পালনের ইতিহাস অনেক পুরনো। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহীম (আঃ) তার স্বীয় পুত্র হজরত ইসমাঈল (আঃ)কে সাথে নিয়ে কাবা ঘর নির্মাণ করার পর থেকেই তা মুসলমানদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সেই ঘরকে পবিত্র রাখার জন্য বলা হয়, হজ্ব পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়, পবিত্র কুরআনে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, স্মরণ করো, যখন ইবরাহীমের জন্য এই ঘরের স্থান ঠিক করেছিলাম, এ কথা বলে যে, এখানে শিরক করো না এবং আমার ঘরকে তাওয়াফকারী ও নামাজীদের জন্য পাকসাফ করে রাখো আর লোকদেরকে হজ্ব করার জন্য প্রকাশ্যভাবে আহ্বান জানাও।

হজরত ইবরাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ) এরপর হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আগ পর্যন্ত কাবাঘর বিদ্যমান এবং সেই ঘর কেন্দ্রিক তাওয়াফের প্রথা চালু থাকলেও তা নানা কুসংস্কার ও অপবিত্রতায় ভরপুর হয়ে যায়। হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আগমনের পর দীর্ঘ সংগ্রাম সাধনার মাধ্যমে তিনি আরব ভূ-খ-ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তিনিও তার পূর্বপুরুষ ইবরাহীম (আঃ) এর মতো কাবা ঘরকে বিশ্ব মুসলিমের কেন্দ্র বলে ঘোষণা দেন। আর আহ্বান জানান হজ্ব করার জন্য। এরশাদ হলো, “মানুষের উপর আল্লাহর হক হলো, এ কাবা ঘর পর্যন্ত আসার- যার সামর্থ্য আছে সে হজ্ব করার জন্য এখানে আসবে। আর যারা কুফরী করবে অর্থাৎ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব করতে আসবে না। তারা জেনে রাখুক যে আল্লাহ সৃষ্টি জগতের মুখাপেক্ষী নন।” (সূরা আলে ইমরান)। অন্যত্র বলা হয়েছে, তোমরা হজ্ব ও ওমরা আদায় করো আল্লাহর জন্য। (সূরা বাকারা)

উল্লেখ্য, হজ্ব ও ওমরা উভয়েই খানায়ে কাবা জিয়ারত বাধ্যতামূলক। হজ্ব ও ওমরাহের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো হজ্ব ফরজ আর ওমরা সুন্নাত। আর ওমরাহে হজ্বের মতো আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করতে হয় না। তবে একই সফরে গিয়ে হজ্ব ও ওমরা আদায় করার নিয়ম আছে। রাসূল (সাঃ) জীবনে একবার মাত্র হজ্ব আদায় করেছেন দশম হিজরীতে। এটাই তার জীবনের শেষ হজ্ব, যা ঐতিহাসিক বিদায় হজ্ব নামে পরিচিত। সেদিন আরাফাতের ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজ্ব নামে পরিচিত। সেই থেকে আজ পর্যন্ত মুসলমানরা হজ্ব ও ওমরা পালন করে আসছে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ