রবিবার ২৮ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

গাইবান্ধার  ৫ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি  

গাইবান্ধায় বন্যা 

গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী: গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি কিছুটা কমলেও তিস্তা এবং করতোয়া নদীর পানি বেড়েই চলেছে। এদিকে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি কমলেও সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার বন্যা উপদ্রুত এলাকার বসতবাড়ি একটানা দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে কাঁচা ঘরবাড়িগুলো বন্যার পানিতে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং পানির স্রোতে ভেসে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছে। এদিকে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া লোকজনরা এখনও বসতবাড়িতে ফিরে যেতে পারছে না। যেসব স্থানে মানুষজন আশ্রয় নিয়ে আছে সেখানে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সরকারি ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল হওয়ায় এসব পরিবার তেমন কোন সহায়তা পায়নি। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবারের বন্যায় ৩ হাজার ১১৬ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। একনাগারে দীর্ঘদিন এসব ফসল পানির নিচে থাকায় কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে পানি নেমে যাওয়ার পর তা বোঝা যাবে। এদিকে বন্যার স্রোতে নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাওয়ায় সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দীঘলকান্দি, গোবিন্দপুর, পাতিলাবাড়ি, নলছিয়া, কালুরপাড়া ও বেড়া গ্রামের দু’শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত বুধবার দুুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৬৯ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সে.মি. উপর দিয়ে বইছিল। অপরদিকে করতোয়া এবং তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ি উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা নতুন করে আবার বন্যা আতংকে রয়েছে। বন্যায় গাইবান্ধার ৫টি উপজেলার ২৯টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার শৌচাগার পানিতে ডুবে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকায় পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে বন্যাকবলিত এলাকা। নৌকা বা কলার ভেলার ওপর থেকে উন্মুক্ত পরিবেশে প্রাকৃতিক কাজ সারতে হচ্ছে।গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, বন্যাকবলিত গাইবান্ধার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ১০ হাজার শৌচাগার পানিতে ডুবে গেছে। ফুলছড়ি উপজেলার মধ্য উড়িয়া গ্রামের কৃষক কাশেম মিয়া (৫৫) বলেন, ‘বন্যায় আমার তিনটি ঘর ডুবে গেছে। পানিতে নষ্ট হয়েছে আসবাব। ঘরবাড়ির পাশাপাশি বন্যার পানিতে পায়খানার ঘরটি ভেসে গেছে। কলার ভেলায় দূরে গিয়ে কাজ সেরে আসছি।’ গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসাইন  জানান,  বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চারটি উপজেলায় ৮৩টি পায়খানা নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো বাঁধ ও উঁচু জায়গায় বসানো হয়। আরও পায়খানার ঘর নির্মাণ করা হবে।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, বন্যা কবলিত মানুষদের তালিকা করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী জানান, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ৬০টি গ্রামের এক লাখ ৪৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গাইবান্ধারে সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় ৬১টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।সার্বিক বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা অব্যাহত আছে। আমরা বন্যাকবলিত মানুষদের ২৪ ঘণ্টা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছি।

রাজারহাটে তিস্তার ভাঙ্গনে শতাধিক 

ঘর-বাড়ি ও ফসলিজমি নদীগর্ভে বিলীন

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তার প্রবল ভাঙ্গনে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দু’টি ইউনিয়নের শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি ও ফসলিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড বিলিন হয়ে যাওয়া ক্রসবাঁধে জিও ব্যাগ ফেলে নদীর গতিপথ ঠিক রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে ক্রসবাঁধ সংলগ্ন ৬টি পরিবারসহ শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনকবলিত পরিবারগুলো বর্তমান সবকিছু হারিয়ে বাঁধ রাস্তায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে তাসনিম ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। 

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভাঙ্গনকবলিত ওই পরিবারগুলোর এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ কোন ত্রাণ সামগ্রী পায়নি। ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ এলাকার ভাঙ্গনকবলিত পরিবার মজিদুল ইসলাম (৪৫), খবর উদ্দিন (৫৫), আকলিমা (৫২), মনজুয়ারা (৪০), শফিকুল (৩৫), তৈয়ব আলী (৬৫)। এদিকে খিতাবখাঁ ৮ নং ওয়ার্ডের শাহআলম (৩২), আব্দুল বাতেন (৩০), কাফি (৫৫), দেলওয়ার (৪২), আব্দুস ছাত্তার (৬৮), শাহজাহান (৪০), আব্দুল কুদ্দুস (৫৮), রফিকুল ইসলাম (৭২), জইনুদ্দিন (৬১), আজিজ (৩৮), খইদ্দর আলী (৬৫)। বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে বুড়িরহাট বাজার, বুড়িরহাট জামে মসজিদ ও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম বলেন, তিস্তার তীব্র ¯্রােতে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের একাংশ ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে আমরা পুরোদমে ধসে যাওয়া অংশে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম। কিন্তু প্রবল ¯্রােতে বিলিন হয়ে গেছে। অপরদিকে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালিরহাট ও গাবুর হেলান এলাকায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রক্ষার চেষ্টা চলছে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে তাসনিম বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকাসমূহ পরিদর্শন করেছি এবং নদীগর্ভে বিলিন হওয়া পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও শুকনো খাবার পৌঁছানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ