শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গরীবদের সাহায্য করতে হবে ------ জাতিসংঘ

২৩ জুলাই,ইন্টারনেট:  জাতিসংঘ বলছে, ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গরীবদের সাহায্য করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল না। তাদের ঘরে রাখতে বা করোনাভাইরাস গাইডলাইন প্রয়োগ করতে অন্তত চাহিদা পূরণ করা জরুরি।

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, বিশ্বের দরিদ্রতম মানুষের জন্য অস্থায়ী প্রাথমিক আয় নিশ্চিত করে প্রায় ৩০০ কোটি মানুষকে ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা গেলে করোনার সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী ১৩২টি উন্নয়নশীল দেশে দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত ২৭০ কোটি মানুষের সুরক্ষার জন্য ২০ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। এটা এখন জরুরিভাবে প্রয়োজন। এই মহামারিতে গোটা বিশ্বে এখন প্রতি সপ্তাহে ১০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, যেখানে দশজনের মধ্যে সাতজন বিভিন্ন অস্থায়ী কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং যারা বাড়িতে বসে থাকলে কোনো উপার্জন করতে পারবেন না তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

ইউএনডিপির প্রতিবেদন বলছে, এই সংকটের সময়ে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন সামাজিক বীমা কর্মসূচির আওতাভুক্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ, যেমন-অস্থায়ী কর্মী, নারী, যুবক, শরণার্থী, অভিবাসী এবং প্রতিবন্ধীরা।  ইউএনডিপি গত কয়েক মাসে ৬০টিরও বেশি দেশে কোভিড-১৯ এর আর্থ-সামাজিক প্রভাবগুলোর ওপর মূল্যায়ন করেছে। এতে দেখা গেছে, সামাজিক সুরক্ষার আওতাভুক্ত কর্মীরা আয় ছাড়া বাড়িতে থাকতে পারবেন না।

অস্থায়ী আয়ের মাধ্যমে তারা খাবার কেনা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার ব্যয় মেটান। তাদের এই ব্যয় নাগালের মধ্যেও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, তাদের  ছয় মাসের অস্থায়ী আয়ের জন্য ২০২০ সালে প্রত্যাশিত কোভিড-১৯ এর মোট আর্থিক প্রতিক্রিয়ার মাত্র ১২ শতাংশ প্রয়োজন হবে, বা উন্নয়নশীল দেশগুলো বহিরাগতের কাছ থেকে যে ঋণ পায় তার এক-তৃতীয়াংশের সমান।

ইউএনডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছিম স্টেইনার বলেন, পরিস্থিতিই নতুন সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের পথ দেখায়। বিশ্বের দরিদ্রতম মানুষের জন্য অস্থায়ী প্রাথমিক আয়ের বিকল্প উপায় পাওয়া গেছে । কয়েক মাস আগেও যা অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে কেবলমাত্র বিশ্বের বড় বড় মার্কেট এবং বড় বড় ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিলে হবে না। অস্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করা গেলে বিভিন্ন দেশের সরকার লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের সহযোগিতা, ক্ষুদ্র ব্যবসা চালু রাখতে সাহায্য করতে পারবে।

ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির কারণে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে অস্থায়ী আয়ের এ ব্যবস্থায় তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে বিভিন্ন দেশ চাকরি রক্ষা করা, ক্ষুদ্র, মধ্য ও মাঝারি উদ্যোগগুলোতে সহায়তা প্রসারিত করা, কাজ হারানো লোকদের শনাক্তকরণ এবংডিজিটাল সমাধান ব্যবহার করার পদক্ষেপ নিতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে অস্থায়ী প্রাথমিক আয় প্রবর্তনের পদক্ষেপ নিয়েছে। টোগো সরকার নগদ স্থানান্তর কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১২ শতাংশ লোককে মাসিক ১ লাখ ৫০ হাজার মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এর বেশিরভাগই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা নারীদের দেওয়া হয়েছে। স্পেনও সম্প্রতি ৮ লাখ ৫০ হাজার দুর্বল পরিবার এবং প্রান্তিক পর্যায়ের ২০ লাখ ৩০ হাজার মানুষের সাহায্যের জন্য মাসিক ২৫ কোটি ডলার বরাদ্দ অনুমোদন করেছে।

ইউএনডিপির প্রতিবেদন বলছে, বিদ্যমান মহামারি বৈশ্বিক এবং জাতীয় বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। নতুন এই বৈষম্যে দুর্বলদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ