বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে অর্থনীতিবিদদের ‘সংশয়’

স্টাফ রিপোর্টার : রফতানি খাতে চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার, তা অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, করোনার সময় ‘অস্বাভাবিক বিশ্ব পরিস্থিতি’ ও দেশীয় বাস্তবতায় এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।  
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি রফতানির নতুন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা দেন।  তিনি বলেন, এবার পণ্যখাতের জন্য ৪ হাজার ১০০ কোটি  ও সেবাখাতে ৭ হাজার কোটিসহ মোট ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কয়েকজন অর্থনীতিবিদ বলেন, করোনার সময় টিকে থাকাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্প উদ্েযাক্তা-রফতানিকারক ও শ্রমিককে আগে বাঁচাতে হবে।  উৎপাদন সচল থাকলে সবাই বাঁচবে। তখন রফতানিও বাড়বে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্বই  অস্বাভাবিক অবস্থায় আছে। বাংলাদেশেও এর বাইরে নয়।  দিনদিন করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। উদ্যোক্তারা টিকে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।  শ্রমিকরা আছেন চরম অসহায় অবস্থায়।  অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রেতার চাহিদা, ক্রয় আদেশ কমছে। এমন পরিস্থিতিতে রফতানির ‘উচ্চাভিলাসী’ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ঠিক হয়নি।  বরং কম লক্ষ্য ধরে বেশি অর্জন করলেই তা হতো বেশি গৌরবের।
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য ভালো অবস্থায় নেই। করোনার বাস্তবতা বুঝে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থাই প্রবৃদ্ধি, চাহিদা, ভোগ ও সরবরাহ চেইনে ভয়াবহ পতনের আভাস দিয়েছে।
ড. সেলিম রায়হান আরও বলেন, আমাদের রফতানির বড় বাজার হলো উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো।  কিন্তু সেসব দেশে রফতানি কমছে।  আবার নতুন বাজারেও যেতে পারছি না।  পণ্যের বহুমুখীকরণেও ফলপ্রসূ উদ্যোগ দেখছি না।  এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পরিলিসি ডায়ালগ-এর ঊর্ধ্বতন গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দিয়ে শেষ হলো গত (২০১৯-২০) অর্থবছর।  বিগত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় প্রায় ২৬ ভাগ কম হয়েছে।  এখন এই অস্বাভাবিক সময়ে প্রায় ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রফতানির নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ ঠিক হয়নি।  এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা কম।
উল্লেখ, গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) পণ্য ও সেবা মিলে মোট রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল  ৫ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার।  বিপরীতে বছরে শেষে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৬০ কোটি ডলার।  এর আগের অর্থবছরে (২০১৮-১৯) রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।  বছর শেষে রফতানি আয় পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ